প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে এদেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে, ঠিক একইভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমরা যদি সকলে মিলে মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তবে তার সুফল সবাই ভোগ করতে পারবে।’
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী এলাকায় সাগরদীঘি খালের দুই পাড়ে আয়োজিত বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে খালের দুপাশে প্রায় ৩৫০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষ মিলে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ মিলে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র কয়দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণী-পেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে এই দেশ থেকে হটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের ঘর গুছিয়ে না রাখলে যেমন তা ময়লা হয়ে যায়, তেমনি নিজেদের এলাকা বা দেশ পরিষ্কার না রাখলে তার ভুক্তভোগী আমরাই হব। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আফসোস না করে, নিজেদের দেশের সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করার দায়িত্ব নাগরিকদের নিজেদেরই নিতে হবে।
খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন বা টিস্যু পেপার ফেলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে বাসাবাড়ির সোয়ারেজ বা ড্রেনেজ লাইনের কানেকশন সরাসরি খালের সাথে যুক্ত না করে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও জনসচেতনতা তৈরিতে মাইকিং করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আজকে এই বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে- আমাদের ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালের চারপাশের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, তা প্রত্যেকে নিশ্চিত করব। পরিবেশ সুন্দর ও ভালো রাখাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।