প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড়-সরিকল পুনঃখননকৃত খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং পরে বাটাজোর অশ্বিনীকুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাত শতাধিক ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবাই যাতে বাংলাদেশে ভালোভাবে থাকতে পারে, সেটিই বর্তমান সরকারের রাজনীতি। সেটিই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আমরা সবাইকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। তাই আমাদের স্লোগান, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।'”
তিনি বলেন, সরকার নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর ও সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীদের শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্থাভাবে যেন কোনো মেয়ে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্য নিয়ে ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, যে ধর্মেরই হই না কেন, সবাই মিলে একসঙ্গে চলতে চাই। ধৈর্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে এগোতে পারলে আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”
এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদীতে প্রবেশ করলে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ গাছের চারাসহ জাতীয় ও দলীয় পতাকা নেড়ে, করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে খালের দক্ষিণ পাড়ে নারিকেলসহ তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, প্রতিটি গাছের পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। দেশের প্রতিটি মানুষ অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুক।”
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দেওয়া প্রকৃতির এই নিয়ামত সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই উদ্যোগে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি গৌরনদীতে প্রথম সরকারি সফর। এর আগে ২০০৩ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল-১ আসনের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সফর করেছিলেন।




















