উত্তর আমেরিকার তপ্ত জুলাইয়ের বুকে যখন ফুটবলের মহোৎসব তার চূড়ান্ত অঙ্কে এসে দাঁড়িয়েছে, তখন আটলান্টিকের এপার-ওপারজুড়ে কেবলই এক অদ্ভুতুড়ে গুঞ্জন-তবে কি কাতার বিশ্বকাপের সেই অবিস্মরণীয় ফাইনালের চার বছর পর, উত্তর আমেরিকার মাটিতে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে? নাকি মাঝপথেই বদলে যাবে এ মহাকাব্যিক চিত্রনাট্য?
সেমিফাইনালের রোমাঞ্চকর মঞ্চ চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে টিকে রয়েছে শীর্ষ চার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে পা রাখা ফ্রান্স ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেনের। সমীকরণ বলছে, সেমিফাইনালের বৈতরণী পার হতে পারলেই আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আবারও দেখা হয়ে যেতে পারে মেসি ও এমবাপ্পের!
গোল্ডেন বুটের দ্বৈরথ
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুই মহাতারকা বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের ভাবনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও এ দুই তারকার লড়াই এখন তুঙ্গে। চলতি আসরে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন এমবাপ্পে ও মেসি। তবে তিনটি অ্যাসিস্ট নিয়ে টাইব্রেকারে কিছুটা এগিয়ে আছেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে, যেখানে মেসির অ্যাসিস্ট দুটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসি ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন, আর ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে ২০ গোল নিয়ে তার ঠিক পেছনেই নিঃশ্বাস ফেলছেন। এবারের বিশ্বমঞ্চে দুজনের এই সমানে-সমানে লড়াই যেন ফুটবল অনুরাগীদের আবার ২০২২ সালের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের স্মৃতিতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন মোড়?
ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশই মনে-প্রাণে চাইছেন ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনার আরেকটি ফাইনাল। স্বয়ং কিলিয়ান এমবাপ্পেও কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে মেসির মুখোমুখি হওয়ার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘মেসি বিশ্বমঞ্চে একবার আমার কাছ থেকে ট্রফি ছিনিয়ে নিয়েছে, এবার দেখা হলে আমি চাইব হিসাবটা নিজের পক্ষে চুকিয়ে নিতে।’ তবে এই স্বপ্নের ফাইনালের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা তরুণ স্প্যানিশ দল ফ্রান্সের জন্য যেমন বড় পরীক্ষা, তেমনি জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডকে হারানো ৩৯ বছর বয়সী মেসির আর্জেন্টিনার জন্যও সহজ হবে না।
সব মিলিয়ে, ফুটবলবিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সেমিফাইনালের দিকে। মেসি কি পারবেন তার ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের মঞ্চে তুলতে? নাকি এমবাপ্পে তার গতি আর ক্ষিপ্রতায় স্পেনকে উড়িয়ে দিয়ে নিজের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করবেন? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে, তবে আপাতত মেসি বনাম এমবাপ্পে দ্বৈরথের আবহেই বুঁদ হয়ে আছে গোটা বিশ্ব।