এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, পুলিশ সদস্যদের সেই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজারবাগে নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যেখানে ঘুমন্ত পালিশ সদস্যদের ওপর হানাদার বাহিনী ‘‘অপারেশন সার্চলাইটের’’ নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ- স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদেরকে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়, স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’
আনন্দঘন আয়োজনে এতক্ষণ বর্ণিল প্যারেড সবাই উপভোগ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে এটি শুধু একটি প্যারেড মনে হয়নি, বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রজনতা এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পরে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলা শিকার নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটি আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।’
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ থেকে শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। আগামী বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত উদযাপিত হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।