রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত পাঁচ পাইলটের লাইসেন্স ইস্যু প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইমেইলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন বিমানের এমডি। বিষয়টি জরুরি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সব নথি পরীক্ষার পর লাইসেন্সের বৈধতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) এ অনুরোধ জানান তিনি।
বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা এ ব্যাপারে বেবিচকের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একটি ইমেইলের মাধ্যমে পাইলট লাইসেন্স প্রদান ও তদারকি ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়ম, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ আসে। অভিযোগের পর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকজন পাইলটের বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল), এয়ারলাইন্স ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) এবং যন্ত্রচালিত উড্ডয়ন অনুমোদন ইস্যুর ক্ষেত্রে অসঙ্গতি শনাক্ত হয়।
চিঠিতে যেসব পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন- ক্যাপ্টেন আব্দুর রহমান আকন্দ (সিপিএল ৪৪৪): ন্যূনতম উড্ডয়ন ঘণ্টা পূরণ না করেই লাইসেন্স প্রদান; ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদ (এটিপিএল ৪৭৪) : লগবুকে দ্বৈতভাবে উড্ডয়ন ঘণ্টা লিপিবদ্ধকরণ; ক্যাপ্টেন আনিস (সিপিএল ৩২৫) : নির্ধারিত উড্ডয়ন ঘণ্টা পূরণ ছাড়াই লাইসেন্স গ্রহণ; ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাব (সিপিএল ২০৬) : জাল সনদ ও বিধিবহির্ভূত অনুমোদন। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন ইউসুফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রধান পাইলট হিসেবে উড্ডয়ন ঘণ্টায় অসামঞ্জস্য, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সনদ ছাড়া লাইসেন্স প্রদান এবং ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করে বিধিবহির্ভূত অনুমোদনের ঘটনাও ঘটেছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট পাইলটদের লাইসেন্স ফাইল, লগবুক, প্রশিক্ষণ সনদ, পরীক্ষার ফল ও অনুমোদনসংক্রান্ত সব নথিপত্র জরুরি ভিত্তিতে যাচাই করে লাইসেন্সের বৈধতা নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউসার আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, পাঁচ পাইলটের লাইসেন্স যাচাইয়ের বিষয়ে একটি চিঠি সিভিল এভিয়েশন পেয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়াসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে এ বিষয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি বিমানের তিন সদস্যের কমিটি প্রাথমিক তদন্তে পাইলটদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পায়। ওই কমিটির প্রতিবেদনে তাদের গ্রাউন্ডেড করার সুপারিশ করা হয়।