বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরলেন, তা পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক। আশা জাগানিয়া এই ইশতেহার যদি সত্যিই রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলিত হয়, তাহলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটির মর্যাদা রক্ষা পায়। আর যদি ইশতেহারের ৩৫টি বিষয় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের স্তরে আসে, আসতে পারে, তাহলেও আমার বিবেচনা, সত্যিই দেশ গণতন্ত্রের সড়কে উঠে এলো। শুধু বিএনপিই নয়, গণতান্ত্রিক সড়কের অন্য রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সমান অবদান বিনিয়োজিত হলে দেশের গোটা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও মর্যাদার পাদপীঠ হতে পারবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলেই যে আমরা জনআকাক্সক্ষাকে গুরুত্ব দিতে পারব এমনটা ভাবার কারণ নেই। কথা বলা আর তা কার্যকর করে তোলার মধ্যে পার্থক্য আছে। নির্বাচিত সাংসদরা যদি ঘোষিত বিষয়গুলো নিয়ে আইন সংস্কার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদক্ষেপে যথাযথ কর্মতৎপর হন, তাহলেই কেবল আমরা আশা করতে পারি যে, গণতন্ত্রের সড়কটি নির্মাণের ভিত শক্তিশালী হয়েছে। সংস্কারগুলো হলো গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালীকরণের একেকটি পিলার বা স্তম্ভ। এই স্তম্ভ গাঁথুনিতে সঠিক পরিমাণ ‘মাল-মসলা’ দিলেই কেবল তা বলশালী হবে। এ দায়িত্ব মূলত নির্বাচিত সাংসদ এবং সরকারের। তবে সরকার পরিচালনার অপারেটর হচ্ছে বিদ্যমান আমলাতন্ত্র। আইন যতই কঠিন করে নির্মিত হোক না কেন, তার প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দায় আমলাদেরই, যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা। আমাদের ব্রিটিশবাহিত আমলাতন্ত্র মানসিকভাবে রোগাক্রান্ত। রাজনীতিকরা যা চান, তারা তার অপব্যাখ্যা, ভুলব্যাখ্যা, সরকারের স্বার্থবিরোধী ইত্যাদি বয়ান সৃষ্টি করে বিভ্রান্ত করে। তারা একবারও বলবে না যে, আইনের এই ধারায় জনগণ উপকৃত হবে, জনবান্ধব হবে।
‘সহে না সহে না ওই জনতার জঘন্য মিতালি’ সুধীন্দ্রনাথ দত্তের এই কাব্যপঙ্ক্তি প্রভুমার্কা। আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী চেতনার ফসল। আমলাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান এই ধারারই। প্রভু হচ্ছে কেন্দ্রের মালিক, প্রান্তিক মানুষ হচ্ছে তাদেরই ভৃত্যস্বরূপ। তারা এদেশের মেহনতি মানুষেরই সন্তান, কৃষকের সন্তান, শিক্ষিত ও প্রাগ্রসর হওয়ার ভেতর দিয়ে, পর্যায়ক্রমে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অথবা বলা যেতে পারে, তাদের মনমানসিকতায়, তাদের উচ্চতর সাংস্কৃতিক জীবনাচারের লোভের চক্করে ফেলে দেয় আমলাতন্ত্র। তারা জনবিচ্ছিন্ন শ্রেণি। এটা বোঝা যায় তাদের আচার-আচরণ, ভাব-ভঙ্গি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কথাবার্তা, শব্দ চয়ন এবং পোশাক-আশাকে। এরা কোনোভাবেই তারেক রহমান ঘোষিত বা জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমানের ইসলামি ইনসাফ বা এনসিপির নাহিদ ইসলামের গণতান্ত্রিক রাজপথ অনুযায়ী কাজ করতে চাইবে না। এটাই আমলাপ্রভুদের চরিত্র। সব দুর্নীতির সূচনা তাদের হাত ধরে হলেও, তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাসিনা সরকারে যারা ষোলো বছর ধরে সেবা দিয়ে তাকে মহিরুহ ফ্যাসিস্টে পরিণত করেছে, সেসব আমলাকে কি আইনের ফোকরে ঢোকানো গেছে? না, যায়নি। এখন প্রশাসনের অধিকাংশই একটি দলের লোকে প্রায় পূর্ণ। এটা গুজব হলে স্বস্তির। আর সত্য হলে, গণতন্ত্রপন্থি তারেক রহমানের পক্ষে তাদের প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
২. লেখার এই বয়ান-ভিত্তির কারণ, তারেক রহমানের জনগণতন্ত্রী রাজনৈতিক ইশতেহার। তার বাবা শহীদ জিয়ার হাতে একবার, আরেকবার তার মা দেশনেত্রী আপসহীন খালেদা জিয়ার হাতে গণতন্ত্র অবমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তা ধারাবাহিক হয়নি, হতে পারেনি। এবারও তারেক রহমান যদি বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারেন, তার দল যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে তিনি ও তার দল যে সেই মসৃণ সড়কটি নির্মাণ করতে পারবেন, এমনটা আমরা ভাবতে পারি, আশা করতে পারি, কিন্তু তার পরিণতি কী হবে, তা বলতে পারি না। তবে আমাদের আরও পাঁচবছর অপেক্ষা করতে হবে, সেই গণতন্ত্রের রূপারূপ দেখতে, উপভোগ করতে। নীতি ও আদর্শের প্রয়োগ ছাড়া এটা বলা যায় না যে, তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেমন শহীদ জিয়ার হাতে একদলীয় বাকশালের অবসান হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েমের সূচনা হলেও, তার মৃত্যুর পর তা রক্ষা করা যায়নি আরেক সামরিক শাসক এরশাদের গণবিরোধী শাসনের ফলে। এরশাদ গণতন্ত্রের নাটকগুলো সাজিয়েছিলেন এমনভাবে যে, মনে হবে এটাই প্রকৃত গণতন্ত্র। তার সেই পথ অনুকরণ ও অনুসরণ করেছিলেন হাসিনা তার ১৬ বছরের বর্বর দুঃশাসনে। দেখা গেছে, হাসিনার সহযোগী হিসেবে এরশাদ ও তার জাতীয় পার্টি আধিপত্যবাদী ভারতীয় আগ্রাসনকে কেমনভাবে বহাল রেখেছিলেন। ডিপ স্টেটের এক গভীর প্রকল্পের মালিক ছিলেন হু.মু এরশাদ ও তদীয় গোপন নেত্রী হাসিনা। সেই সময়কার রাজনৈতিক নাটকগুলো, চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এর পরের দৃশ্য তো ১৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক মিত্র ছিল আজকের জামায়াত। তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র তো চোখের সামনেই আছে। হাসিনা সরকার নিষিদ্ধ করল জামায়াত-শিবির। তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেল। তাদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হলো। তারা হাত গুটিয়ে রইলেন। চিকিৎসক হিসেবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বাইরে কিছু করতে পারলেন না। শিবিরের কিছু চৌকস শিক্ষার্থী, পড়াশোনার মাধ্যমে সজাগ-সচেতন হলো। তারাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলেনের সূচনায় ছিল। ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনৈতিক কর্মীরাও যুক্ত হয়েছিল তাদের সঙ্গে। ছিল বিএনপির ছাত্রফ্রন্টের অনেক অচিহ্নিত শিক্ষার্থী। আর ছিল হাসিনার দুঃশাসনবিরোধী সাধারণ মানুষ। তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী। রিকশাওয়ালা, ফুটপাতের দোকানি, ভাসমান মানুষ, আর দিন এনে দিন খাওয়া লোকজন। জুলাই যখন উত্তপ্ত কড়াই, তখন হাসিনাকে উৎখাতে রাস্তায় নামে মহানগরের সাধারণ মানুষ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার সেই আন্দোলনে যোগ দেয় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। যোগ দেয় ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের একটি অংশ। কিন্তু আজ এনসিপিতে সেসব রণনেতা-নেত্রীদের দেখছি না। তাদের অনন্য সব সেøাগানে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো সবসময় সরব থাকত। ওই দুর্দান্ত সময়ের ইতিহাসের অংশগুলো ধারণ করেছেন ক্যামেরার সাংবাদিকরা। তাদের অবদানকেও তো স্বীকার করতে দেখছি না। যেসব কবি-সাহিত্যিক গণ-বিস্ফোরণের সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছিলেন, তাদের মুখ কোথাও দেখি না।
৩. জনমত জরিপগুলো বলছে বিএনপি এগিয়ে আছে। আর মাত্র তিন দিন বাকি আছে নির্বাচনী দিনে পৌঁছাতে। জনগণ এবার বহু বছর পর তাদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার ভোট দিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত ও পথ আছে বলেই এবং তাদের সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছে। তারা আত্মবিশ্বাসী। ভোটারদের মধ্যেও পুরোমাত্রায় আত্মবিশ্বাস এবার তারা ভোট দিতে পারবে। সবচেয়ে সোচ্চার হচ্ছে জেন-জি খ্যাত তরুণ ভোটাররা। প্রায় তেরো কোটি ভোটারের মধ্যে ৩০-৩৫ শতাংশই তরুণ ভোটার। আবার প্রথমবার তারা ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। এদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। কেউ দেবে বিএনপিকে, কেউ বা দেবে জামায়াত ও এনসিপিকে। জেন-জি দল এনসিপি নির্বাচনী আঁতাত জামায়াতের সঙ্গে করায় জেন-জি প্রজন্ম নাখোশ। জেন-জিদের অধিকাংশই, ধারণা করা হচ্ছে বিএনপিকে পছন্দ করছে। কারণ সেখানে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে, থকবে এবং গণতন্ত্রের বিকাশ সাধনে মৌলিক পরিবর্তনে কাজ করবে। ইশতেহারে তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওয়াদাই কেবল করেননি, আগামী দিনের জন্য প্রণোদনা নির্মাণের চেষ্টা করবেন, এই বিশ্বাস আছে। তরুণদের নেতা তারেক রহমান। তরুণ নেতৃত্বের প্রতি তার প্রবল আস্থা। তিনি গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে কাজ করেছিলেন ২০০১ সালে। ফলে সেসব তরুণ এখন চল্লিশের কাছাকাছি বয়সী। তাদের স্মৃতিতে তারেক রহমানের ইমেজ ভালো এবং সেই কনফিডেন্সই দেখা যাচ্ছে তার সাম্প্রতিককালে। রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার সাফল্যের দিকটি দেখতে পাচ্ছেন। তাই বলতে পারছেন নির্দ্বিধায়, সরকারে তিনি জামায়াতকে সঙ্গে নেবেন না। বরং তারা কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারবে, সেটাই ভালো অপশন। ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান নির্বাচনের পর তার প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান তিনি। একই সঙ্গে তার দলের এককভাবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি কতটা কনফিডেন্ট, তা বোঝা যায় তার কথাতেই। বরং তার দলের জোটপার্থী বা মিত্রদের সরকারে জায়গা দেবেন বলেই আমার ধারণা। সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সুফল মেলে। সরকারি দলের সমালোচনা, ভুল-ত্রুটি ইত্যাদি সম্পর্কে তারা যেমন তুলে ধরতে পারবেন, তেমনি দিতে পারবেন তার নতুন সম্ভাবনার পথ দেখিয়ে দিতে। আর এভাবেই একটি সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে। গৃহপালিত বিরোধী দল আমরা হাসিনার সময় দেখেছি, তাদের জনগণের সঙ্গে ওয়াদা বরখেলাপ করতেও দেখেছি আমরা, নতুন করে তা ফিরে আসুক, তা চাই না আমরা।
ঢাকার একটি আদালত গত বছর রায়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাকে আশ্রয় দেওয়ায় নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে-ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য জুতসই প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের সঙ্গে নয়।’ একমুখী নয়, বহুমুখী সম্পর্কের দুয়ার উন্মোচন করবেন তিনি। যারা আমাদের দেশের স্বার্থের প্রকল্পে ন্যায় ও ন্যায্যভিত্তিতে এগিয়ে আসবে, তারাই বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু হতে পারবেন। এখানে প্রমাণিত যে, ভারত আমাদের জন্য কোনো বন্ধু নয়, বরং শত্রু হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। হাসিনাকে আশ্রয় ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সব চেষ্টাই ভারত করেছে এবং ভবিষ্যতেও ওই দেশটি ডিপস্টেটের নীতিতে থাকবে। তাদের অখ- ভারত নির্মাণের নীতিগত প্রকল্প যতদিন পর্যন্ত চলবে, ততদিনই তারা বাংলাদেশের শত্রু হিসেবে গণ্য হবে। তবে তারা যদি তাদের ভুলগুলো শিকার করে নিয়ে এগিয়ে আসে ইতিবাচক দৃষ্টি নিয়ে, তাহলে আমরাও তাদের সাদরে বরণ করব। ঠিক একই রকম দৃষ্টি আওয়ামী লীগের ব্যাপারেও। এদেশের জনগণ যদি তাদের অনুমোদন দেয়, তাহলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি পুনর্বাসিত হতে পারে। রাজনীতিতে এ রকম ইতিবাচকতা প্রয়োজন, যা বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রাকে নতুন করে পথ দেখাবে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক
এ জাতীয় আরো খবর..