বুধবার, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে গৌরনদীতে মৎস্যজীবিদের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরন জুলাই বিপ্লব খালেদা জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফল পরিণতি: আইনমন্ত্রী    জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে  গৌরনদী পৌরবাসী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৮৮, মামলা ৫৫ সেপ্টেম্বরে ভয়ংকর হতে পারে ডেঙ্গু সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন রাজস্ব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চান ক্যানিজিয়া

১৪ বছর পর যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৮ বার পঠিত

পৌষের শুরুতেই কনকনে হাওয়ায় হাড়ে কাঁপন লেগেছে। গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশা ও বাতাসের দাপটে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই শীতের মাত্রা বেড়েছে এই অঞ্চলে। তাপমাত্রা কমে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। এই মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ হানা দিয়েছে যশোরে। শীতের দাপটে দুর্ভোগে শ্রমজীবী মানুষ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানায় যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস। এর আগে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, ১৯৬২ সালে যশোর ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছিল, যা দেশের সর্বনিম্ন রেকর্ড। সবশেষ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে যশোর ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে, যা ছিল সেই সময়ের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে, প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। তবে ঘর থেকে বের হয়েও কাজ মিলছে না শ্রমজীবী মানুষের।

যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪০০ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

বাহাদুরপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতে একদিন কাজ পাই তো, তিন দিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ হচ্ছে না। শীতের মধ্যে প্রতিদিন ভোরবেলায় এসে বসে থেকেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

শহরের রায়পাড়া এলাকার রিকশাচালক জোহর আলী বলেন, শীতে রিকশা চালাতে গিয়ে হাত-পা জমে যাচ্ছে। ব্রেকও ঠিকমতো ধরা যাচ্ছে না। আর বাতাসে মনে হচ্ছে গায়ে সুঁচ ফোটাচ্ছে।

খড়কি এলাকার রিকশাচালক ইসলাম হোসেন বলেন, গত তিন-চারদিন যে পরিমাণ শীত পড়ছে; তাতে বাইরে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রিকশা না চালালে ভাত জুটবে না; তাই বাধ্য হয়ে পথে নামতে হয়েছে।

ঝুমঝুমপুর এলাকার রিকশাচালক আব্দুর রহিম জানান, সকাল ৯টা ১০টার আগে রাস্তায় মানুষ আসছে না। আবার সন্ধ্যার পরপরই অনেক মানুষ ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। ফলে যাত্রী অনেক কমে গেছে। আয়ও কমে অর্ধেকে নেমেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকের অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com