বৃহস্পতিবার, ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

রাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙা কি বড় কোনো রোগের লক্ষণ?

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত হলো গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু অনেকেরই মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণ কোনো অভ্যাস হতে পারে, আবার বড় কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

কেন বারবার ঘুম ভেঙে যায়?

আমাদের ঘুমের একটি চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ থাকে, যা সাধারণত প্রতি ৯০ মিনিট পর পর পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের সময় ঘুম কিছুটা পাতলা থাকে, ফলে সামান্য কারণেও তা ভেঙে যেতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো:

পরিবেশগত কারণ: ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি বা কম হওয়া, বাইরে থেকে আসা আলো বা জানালার ধারের আওয়াজ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: সারাদিনের ক্লান্তি, অফিসের কাজের চাপ বা মনের ভেতরের অস্থিরতা ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডিপ্রেশন বা এনজাইটি থাকলে রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

খাদ্যাভ্যাস: শোবার আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া কফি বা অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়।

শারীরিক সমস্যা: ঘাড়, পিঠের ব্যথা বা মাংসপেশির টান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন বা মেনোপজের কারণেও এমনটি হতে পারে।

এটি কি কোনো রোগের লক্ষণ?

বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া নিচের এই রোগগুলোর সংকেত হতে পারে:

১. স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি একটি গুরুতর সমস্যা যেখানে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক শরীরকে জাগিয়ে দেয়।

২. অ্যাসিড রিফ্লাক্স: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আছে, শুয়ে থাকার সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড গলায় উঠে আসায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

৩. লো ব্লাড সুগার: রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে এবং ঘুম ভেঙে যায়।

৪. ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা: এটি নিয়মিত হতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা রোগে রূপ নিতে পারে।

ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন?

যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আর ঘুম না আসে, তবে জোর করে বিছানায় পড়ে থাকবেন না। নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

বিছানা ছেড়ে উঠুন: কিছুক্ষণ অন্য ঘরে গিয়ে হালকা পায়চারি করুন।

মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলুন: ভুলেও হাতে ফোন নেবেন না। স্ক্রিনের নীল আলো আপনার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে—এখন দিন হয়ে গেছে, যা ঘুম পুরোপুরি কাটিয়ে দেয়।

বই পড়া বা গান শোনা: হালকা কোনো বই পড়ুন অথবা মৃদু ধীরলয়ের গান শুনুন।

মেডিটেশন: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন মন শান্ত করতে সাহায্য করে।

প্রতিকারের উপায়

—দুপুরের ঘুম ২০ মিনিটের বেশি নয়।

—শোয়ার আগে ঘর অন্ধকার রাখুন (প্রয়োজনে আই মাস্ক ব্যবহার করুন)।

—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।

—শোয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে নিন।

সতর্কবার্তা: যদি নিয়ম মেনে চলার পরও মাসের পর মাস এই সমস্যা চলতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই পারে আপনাকে প্রশান্তির ঘুম ফিরিয়ে দিতে।

তথ্যসূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com