জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের ‘দুঃশাসনের চিত্র’ আর ২০২৪ সালের আন্দোলনের নানা স্মারক ও দলিল নিয়ে গড়ে তোলা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বুধবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও সবার জন্য এ জাদুঘর উন্মুক্ত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। জনসাধারণ টিকিট কেটে জাদুঘর দেখতে পারবেন। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবেশমূল বড়দের ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এই সরকারের অধীনই গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলির জীবন্ত দলিল হিসেবে পুনর্নির্মিত হয়েছে এই স্থাপনা। এখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, শহীদদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত নানা উপকরণ, সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র এবং ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।