সোমবার, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
নামবিভ্রাটে ট্রেনে হামলার ঘটনায় আলোচনায় ‘ভুল’ অন্তরা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় যেকোনও দিন বাংলাদেশের ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে মিয়ানমারের স্বীকৃতি পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের মুসলিম নেতা ও তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা ১৮০ দিন পূর্তিতে সরকারের কর্মযজ্ঞের ১০ দিক তুলে ধরলেন মাহ্‌দী আমিন প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ সৌদির ক্রাউন প্রিন্সের হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু জুলাই বিপ্লব খালেদা জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফল পরিণতি: আইনমন্ত্রী জিয়া পরিবার দেশের প্রতিটি সংকটে জাতিকে পথ দেখিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার হাতুরি পেটা, যুবক হাসপাতালে 

ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে ফ্রান্সে

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী খরা, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ। আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।

দক্ষিণ ফ্রান্সের আউদ, পিরেনে-ওরিয়ঁতাল, বুশ-দ্যু-রোন এবং আশপাশের এলাকায় একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ড এখনো সক্রিয় রয়েছে। শুধু আউদ এলাকাতেই প্রায় ৯০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি ইতোমধ্যে পুড়ে গেছে। কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ফরাসি সরকার জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। সাধারণত জুলাইয়ের শেষ দিকে দাবানলের মৌসুম তীব্র হলেও এবার তা আগেই শুরু হয়ে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তের পর বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বনাঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

pic

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছেন প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী। তাদের সঙ্গে রয়েছে অগ্নিনির্বাপক বিমান, কানাডেয়ার উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। আগুনের ঝুঁকি থাকা এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় আবাসিক এলাকা, গুদামঘর, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন ক্যাম্পসাইট আগুনের হুমকির মুখে পড়েছে। কিছু অঞ্চলে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাময়িকভাবে সড়ক ও বিমান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত মৃত্যুর বড় অংশই ৪৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে। আর ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের ঝুঁকি সর্বোচ্চ। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, জুন ও জুলাইয়ের এই সময়ে ফ্রান্সের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। রাতেও অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামছে না। ফলে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী তাপচাপ সৃষ্টি করছে।

picture

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এর ফলে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে এর প্রভাব আরও গভীর হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার জরুরি বৈঠক করে বনাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দাবানলপ্রবণ এলাকায় আগুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোতেও তাপমাত্রা উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। ফলে দাবানলের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com