অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের কারণে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল এই জাহাজটি।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়। বর্তমানে জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজের অতিরিক্ত চিফ অফিসার প্রণয় সাহাও ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএসসির তথ্যমতে, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিএসসি সেটিকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেয় জাহাজটি। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সেটি বন্দরে আটকে পড়ে। পরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ অতিক্রমের সময় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। এরপর জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসসি।
সংস্থাটি জানায়, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ারটি বর্তমানে ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বাংকারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক ও ক্রু সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) হিসাব অনুযায়ী, হরমুজের চার পাশে এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০টি জাহাজ আটকে আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পরেই ইরান এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় এবং তাদের অনুমতি ছাড়া এই পথ দিয়ে কারও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ বন্ধে সম্প্রতি নতুন করে অগ্রগতি হওয়ায় এবার আবার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করে এমভি বাংলার জয়যাত্রা।