বিদ্যুৎ খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বকেয়া বিল আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে বরিশালের গৌরনদীতে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর গৌরনদী জোনাল অফিস।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের নির্দেশনা এবং বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম খান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গৌরনদী উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান। অভিযানে পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে গৌরনদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা ২৩ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে একজন অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। বিদ্যুৎ চুরি, অপচয় এবং দীর্ঘদিন বিল বকেয়া রাখার কারণে সেবার মান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও ক্ষতি হয়। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম খান বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং বৈধ সংযোগ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অভিযান শেষে গৌরনদী জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান, থানা পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়।
পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতেও অবৈধ সংযোগ, বিদ্যুৎ চুরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া বিলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।