মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ১০৩ জনকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। একই মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন গত ২২ মে আদালতে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার সার্বিক তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, বিবাদীদের দেওয়া বিভিন্ন ডকুমেন্টস পর্যালোচনা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণে এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে আসামিদের ওই ধারাগুলোর দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
যাদের মানব পাচারের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক এমপি ও এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন (স্বপন), সাবেক এমপি ও আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী বেনজীর আহমেদ, সাবেক এমপি ও সিংগা ওভারসিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নিজাম হাজারী, ইম্পেরিয়াল রিসোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম, ওয়াইজি আল ফালাহ ম্যানেজমেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহেল রানা, অপরাজিতা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানাল আবু জাহেদ, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম রফিক, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিন, নাতাশা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন, জিএমজি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মওলা, আল ফারা হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সির স্বত্বাধিকারী জাকির আহমেদ ভূঁইয়া, ম্যানপাওয়ার করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মাহবুব আলম, মদিনা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন মজুমদার (সিরাজ), আল খামিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রেজিয়া বেগম এবং স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম কুমার রায়সহ ১০৩ জন।
একই মামলার দ্বিতীয় অংশের তদন্তে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, বিবাদীদের দেওয়া বিভিন্ন ডকুমেন্টস এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনায় এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে পল্টন থানার সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক এমপি ও ৫এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন (স্বপন), সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক এমপি মো. নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘মামলার দুটি পার্ট রয়েছে। মানব পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এই অংশের ক্ষেত্রে অব্যাহতির সুপারিশ করেছি। তবে চাঁদাবাজিসহ ভাঙচুর-প্রতারণার অংশে প্রমাণ পাওয়ায় এখানে ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে।’