মঙ্গলবার, ০২:৫৯ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

গ্যানন-ডোকের ঝলকে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নে নতুন আলো

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ব্রাজিল। হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের সেই জয়ে ম্যাচসেরা না হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ২০ বছর বয়সী উইঙ্গার বেন গ্যানন-ডোক। মাঠে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, আক্রমণাত্মক খেলা এবং আবেগময় উদযাপন স্কটল্যান্ড সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে বলকে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে রক্ষা করে গোলকিক আদায় করার পর গ্যানন-ডোকের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে তার সেই উদযাপন যেন বিশ্বকাপের ফাইনাল জয়ের আনন্দেরই প্রতিচ্ছবি। বোস্টনের স্টেডিয়ামে উপস্থিত স্কটিশ সমর্থকদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেয় নতুন উদ্দীপনা।

স্কটল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট। অসুস্থতা কাটিয়ে দলে ফিরেচেন স্কট ম্যাকটমিনে। শুরু থেকেই খেলেছেন জন ম্যাকগিন। আক্রমণভাগে ছিলেন লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড। তবে সবার নজর কেড়ে নেন এমন একজন তরুণ ফুটবলার, যার জন্মই হয়েছিল স্কটল্যান্ডের সর্বশেষ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের পর।

দুই বছর আগে ইউরো ২০২৪ এর জন্য স্টিভ ক্লার্কের দলে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছিলেন গ্যানন-ডোক। কিন্তু চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে যাওয়া হয়নি তার। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক চোটে বেশ ভুগেছেন। সর্বশেষ বড় চোটে তার হ্যামস্ট্রিংয়ের অবস্থা হয়েছিল সুতোয় ঝুলে থাকার মতো।

তবু প্রতিকূলতাকে হার মেনে বসে থাকেননি গ্যানন-ডোক। জাতীয় দলের হয়ে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে স্কটল্যান্ডের প্রায় প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রেই ছিলেন তিনি। ডান প্রান্ত দিয়ে বারবার প্রতিপক্ষ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। তারই তৈরি করা সুযোগ থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয় একাধিকবার।

ম্যাকটমিনের পোস্টে লাগা শটের পেছনেও ছিল গ্যানন-ডোকের দারুণ দৌড়। পরে তার তৈরি করা আরেকটি সুযোগ থেকেই জন ম্যাকগিন গোল করে স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। এটিই ছিল ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল।

ফুটবলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন এই তরুণ। কৈশোরে সেল্টিক ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর একাকিত্ব এবং ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। সেই সময়েই ধর্মবিশ্বাসে নতুন করে ফিরে আসেন তিনি।

ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠা গ্যানন-ডোক জানিয়েছেন, একসময় ধর্ম থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে কঠিন সময়ে আবার ঈশ্বরের প্রতি আস্থা ফিরে পান। ম্যাচের আগে প্রার্থনা করা এবং নিয়মিত বাইবেল পড়া এখন তার জীবনের অংশ। যদিও তিনি এসব ব্যক্তিগত পরিসরেই করতে পছন্দ করেন।

বিশ্বকাপ অভিষেকে তার পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে সাবেক খেলোয়াড়দের কাছেও। সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন তাকে নিয়ে বলেছেন, সে দুর্দান্ত খেলেছে।

অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক স্কট ব্রাউনের মন্তব্য, স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড় বলতে যা বোঝায়, সে ঠিক তেমনই।

বিশ্বকাপে দীর্ঘ অপেক্ষার পর জয় পাওয়া স্কটল্যান্ডের জন্য গ্যানন-ডোক যেন নতুন প্রজন্মের প্রতীক। সাহস, গতি এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন। আর সেই পথচলাতেই স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা খুঁজে পাচ্ছেন নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com