বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল গ্রামে যুবক আরিফ আকনকে (৩৫) হত্যার পরিকল্পনার একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চাচা-ভাতিজা রুবেল আকন ও রাব্বি আকনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফ বর্তমানে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গৌরনদী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গেরাকুল গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম মেছের আকনের একমাত্র ছেলে আরিফ আকন গত শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন। সন্ধ্যার কিছু আগে বাড়ির পাশেই একদল হামলাকারী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার শাবল দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত আরিফকে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন।
এদিকে শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই রেকর্ডে আরিফকে পিকআপ ভ্যান চাপা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। রেকর্ডটি প্রকাশের পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে আরিফের বড় বোন তিরা মনি বেগম অভিযোগ করেন, তাঁদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নজর রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে তাঁর ভাইকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং এ কাজে অভিযুক্তদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিরা মনি বেগম আরও বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে স্থানীয় একটি দোকানের সামনে প্রকাশ্যে আরিফকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তখন আরিফ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বিকেলে বাড়িতে ফেরার পরপরই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফ কয়েক মাস আগে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাম হাতের কার্যক্ষমতা অনেকটাই হারান। সেই অবস্থার মধ্যেই সর্বশেষ হামলার শিকার হন তিনি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল ও রাব্বি আকন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “আহত আরিফ আকনের মা মরিয়ম বেগম শনিবার সন্ধ্যায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ জাতীয় আরো খবর..