রবিবার, ০২:১৩ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ (রোববার) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানের পর থেকেই এ প্রস্তুতি শুরু হয়। অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর দিন প্রথমে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন কত কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে তা চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট ২০২৬-২৭ উপস্থাপন করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বাজেটের আকার হবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থের বড় একটা অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

পর্যাপ্ত নয় ভর্তুকি

বাজেটে সরকারের ব্যয়ের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ অন্যতম। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি তেল-গ্যাস আমদানি, সারসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন উপকরণ আমদানি ও সহায়তা, রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে এসব ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার আমদানিতে। দেশে শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই ভর্তুকি খুবই জরুরি।

তবে দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাইছে দেশের বাজেট ঘাটতি কমানো হোক এবং ভর্তুকি তুলে দেওয়া হোক। সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই ঋণ কর্মসূচি যদিও এখন চলবে না বলে জানা যায়। তবে বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দিয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পরিকল্পনা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়া গ্যাস আমদানির (এলএনজি) জন্য রাখা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস আমদানির এই অর্থ অন্যান্য ভর্তুকির নামে রাখা অর্থ থেকে ব্যয় হবে। অন্যান্য খাতে রাখা হয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সার আমদানিতে রাখা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সারের এই অর্থ কৃষি খাতের জন্য রাখা ১৭ হাজার কোটি টাকা ও বাকিটা অন্যান্য খাত থেকে খরচ হবে। আগামী বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দও চলতি বছরের সমান।

অর্থ বিভাগের বাজেট পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ, এলএনজি ও কৃষি ভর্তুকি বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে আগামী অর্থবছর।

খাদ্যে ভর্তুকি কমছে

দেশে বাজেটে বরাদ্দ করা ভর্তুকির বড় অংশ খরচ হয় ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য বিতরণের জন্য। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের মূল বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে খাদ্যে ভর্তুকি কমিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ছে: দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় দুটি খাতের একটি রেমিট্যান্স। হুন্ডি ঠেকাতে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা চালু রয়েছে। এই খাতে প্রণোদনা ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জন্য মূল ও সংশোধিত উভয় বাজেটেই ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

রপ্তানি প্রণোদনা অপরিবর্তিত থাকছে

বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দিতে বাজেটে ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটের সমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com