রবিবার, ০৯:৫০ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে উপকূলীয় স্থাপনায় মার্কিন হামলা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত

হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন এই সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান চেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত চারটি ড্রোন হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামুদ্রিক পরিবহনকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি ও রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। দুই স্থানই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপরও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

এদিকে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত

তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনায় থাকলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তেহরান চুক্তির অংশ হিসেবে তেল বিক্রির রাজস্বে প্রবেশাধিকার, জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই অঞ্চলে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে।

চাপের মুখে ট্রাম্প

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জনঅসন্তোষের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা হলেও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের এখনো প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। সংখ্যাটি কম নয়, তবে যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় অনেক কম।’

ইরান কেন এখনো সমঝোতায় আগ্রহী নয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা শক্তিশালী, তারা গর্বিত। কিছু বিষয় তাদের মেনে নিতে হবে, তবে এতে সময় লাগছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com