দেশের উন্নয়নের অদম্য গতি কেউ থামাতে পারবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। আজকের তরুণরাই হবে স্মার্ট দেশ গড়ার সৈনিক। দেশের উন্নয়নের অদম্য গতি কেউ থামাতে পারবে না।’
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের জন্য রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪৮ উচ্চ শিক্ষার্থীকে ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। খবর বাসসের।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ফেলোশিপের (পিএমএফ) ফেলোসহ উচ্চশিক্ষার্থীদের দেশের ব্যাপক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য দেশি ও বিদেশি শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা-ভাবনা প্রয়োগের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা কখনই অন্যের মডেলের ওপর নির্ভর করব না। দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে আমরা নিজস্ব মেধা ও চিন্তার প্রয়োগ ঘটাব।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, প্রাকৃতিক পরিবেশ, দেশবাসীর মানসিকতা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য ফেলোদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত আমাদের দেশকে জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং অনুভব করতে হবে, যেখান থেকে আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করতে আপনাকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জ্ঞানের সঙ্গে দেশের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করার জ্ঞানকে সমন্বয় করতে হবে, যা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।’
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রতিটি খাতে উন্নয়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা যে দেশকে সার্বিক উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তা গত সাড়ে ১৪ বছরে তারা প্রমাণ করেছেন।’
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন জিআইইউর মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল লতিফ।
অনুষ্ঠানে মাস্টার্স ও পিএইচডি ফেলোদের পক্ষে যথাক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শিবলী ইসলাম এবং গণস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহকারী আফিফা আনজু তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘বিদেশি উচ্চশিক্ষা থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কী করছেন, তা মনে রাখবেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। এটি আমাদের লক্ষ্য এবং আমরা লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই। আমরা পিছিয়ে পড়তে চাই না।’
মেধাবীদের দেশের মশাল বাহক আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, মেধাবীরা তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কারণ শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি সম্ভব নয়।’
২৩-২৪ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ফেলোশিপ প্রদানসহ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’