বৃহস্পতিবার, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
সম্প্রচারস্বত্ব: প্রশ্নের মুখে আওয়ামী লীগ আমল, আলোচনায় জহির উদ্দিন স্বপনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ চীনে চায়না মিডিয়া গ্রুপের ৫ম সম্মেলন উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ১১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার ৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হবে সালমান শাহ’র লাশ ‘এক বছরের মধ্যে ঝিলমিলে বাড়ি নির্মাণের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে’ দেশে জলাতঙ্ক বা অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সময়ক্ষেপণের জন্য ইরানকে এখন মূল্য দিতে হবে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সরকারি হাসপাতালে ২৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ অতিরিক্ত সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমে গেছে: কৃষিমন্ত্রী

এক ইহুদির সাথে মহানবী সা:-এর মহানুভবতা

শাহাদাত সাকিব
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ১৬৩ বার পঠিত

জায়েদ ইবনে সা‘নাহ। একজন ইহুদি। একবার নবীজী তার থেকে কিছু ধার নিয়েছিলেন। পরিশোধের সময় এখনো আসেনি। আরো তিন দিন পর পরিশোধের কথা। নবীজী হাঁটছিলেন। সাথে ওমর রা:। এমন সময় হঠাৎ সেই ইহুদি তেড়ে এসে নবীজীর কাপড় গুটিয়ে ধরল। কণ্ঠে তার কর্কশ স্বর। গলায় বজ্রধ্বনি- ‘তোমরা বনী আবদুল মুত্তালিবের লোকেরা ঋণ পরিশোধে বড় টালবাহানা কর!’

ওমর রা:-এর মতো বীর-বাহাদুরের সামনে প্রিয় নবীজীর সাথে এমন আচরণ! তিনি কি আর সহ্য করতে পারেন! গর্জে উঠলেন তিনি। এ দেখে নবীজী হাসছিলেন। মিটমিট করে। একটু পর কোমলকণ্ঠে বললেন, ‘ওমর! আমি এবং সে দুজনই তোমার কাছে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী ছিলাম। তুমি আমাকে সুন্দরভাবে ঋণ পরিশোধ করতে বলতে। আর তাকে বলতে, সুন্দরভাবে পাওনা তলব করতে।’

সুবহানাল্লাহ! কত সুন্দর উত্তর! একজন সাহাবীকে বলছেন, নিজেকে সদুপদেশ দেয়ার জন্য। কত বড় বিনয়!

নবীজী বললেন, আসলে ঋণ পরিশোধের আরো তিন দিন বাকি আছে। এরপর ওমর রা:-কে বললেন, তার পাওনা পরিশোধ করে দাও এবং বাকি এ তিন দিনের হিসেবে তাকে আরো ত্রিশ সা’ পরিমাণ বাড়িয়ে দাও।

নবীজীর এ মহানুভবতা ইহুদির মনে দাগ কাটল। ইহুদি বুঝল, তার আচরণটা অন্যায় হয়েছে। সময়ের আগেই সে পাওনা চেয়েছে। চাওয়ার ধরনটাও হয়েছে খুব খারাপ। একজন মানুষকে এভাবে কাপড় চেপে ধরা ঠিক হয়নি। কিন্তু এরপরও যে তিনি কিছুই বললেন না! উল্টো আরো বাড়িয়ে দিতে বললেন। এমন ভালো মানুষও কি হয়!

নবীজীর এ অনুপম আচরণে বদলে গেল ইহুদির মন। অন্ধকার ছেড়ে সে পেল আলোর সন্ধান। আলোকিত জীবনের, আলোকিত ভুবনের। নবীজীর ক্ষমা ও মহানুভবতা দেখে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলো চিরজীবনের জন্য। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ২২৩৭, ৬৫৪৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদিস : ১৩৮৯৮)

আমরা তো এমন মহানুভব নবীরই উম্মত। তাই এসো, প্রতিজ্ঞা করি, আমরা কখনো কাউকে কষ্ট দেব না। কেউ আমাদের কষ্ট দিলে কিংবা অন্যায় আচরণ করলে উদারমনে তাকে ক্ষমা করে দেব। আমরা ক্ষমাশীল মানুষ হতে চেষ্টা করব। তাহলে ক্ষমাশীল আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com