মাদারীপুরের কালকিনিতে যৌতুকের টাকা দাবি, স্বর্ণালংকার বিক্রি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক গৃহবধূ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের গদাধরদী এলাকায় গত ১৪ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী লামিয়া আক্তার (২৩) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আহমেদকাঠি গ্রামের শহীদ মৃধার মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে কালকিনি উপজেলার গদাধরদী গ্রামের ছায়েদ ফকিরের ছেলে রুহুল আমীন ফকিরের (৩৫) সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
লামিয়ার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছেন। তাঁর স্বামী রুহুল আমীন আগে কাতার প্রবাসী ছিলেন। পরে ইতালি যাওয়ার কথা বলে যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করলে তিনি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বিয়ের সময় যৌতুক ও উপহার হিসেবে দেওয়া দুই ভরি স্বর্ণালংকারও তাঁর স্বামী বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন লামিয়া।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরার পর রুহুল আমীন কোনো কাজ না করে জুয়া ও নেশাজাতীয় কাজে টাকা-পয়সা ব্যয় করতে থাকেন। এতে সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় স্বামী রুহুল আমীন ফকির, দেবর রকিব ফকির (৩২) ও শ্বশুর ছায়েদ ফকির (৬৫) তাঁকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ তাঁর।
সর্বশেষ ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বসতবাড়ির উঠানে কিল-ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করেন বলে অভিযোগ করেন লামিয়া। পরে তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় লামিয়া আক্তার বাদী হয়ে রুহুল আমীন ফকির, রকিব ফকির ও ছায়েদ ফকিরের নাম উল্লেখ করে কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটির নম্বর আর-১২২৫। এ বিষয়ে কালকিনি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ জাতীয় আরো খবর..