সোমবার, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা ‘ক্রসফায়ারে’ একরামুল হত্যা : হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল কোনো বাধা ছাড়াই দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন বিশ্বকাপ শেষে প্রথমবার জনসমক্ষে মেসি জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাস রুটে আসছে বড় পরিবর্তন সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

মরিয়ামের বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দেন গাজী নজরুল

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

মরিয়াম বেগমের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে তার বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। আশ্বাস দিয়েছিলেন কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার। এই দাবি করেছেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, টাকার লোভে মরিয়ামের মা-বাবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেননি। গত শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। ওবায়দুর রহমান এরই মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন। মরিয়ামের মামা হন ওবায়দুর। গাজী নজরুলের গাড়ি চালানোর পাশাপাশি তার সঙ্গে ওবায়দুরের আত্মীয়তা রয়েছে মরিয়ামের বাবার সূত্রে।

ওবায়দুর জানান, গাজী নজরুল সম্পর্কে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহর খালু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই মরিয়ামদের পল্লবীর ভাড়া বাড়িতে গাজী নজরুলের যাতায়াত ছিল বলে জানান ওবায়দুর।

তিনি বলেন, এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও গাজী নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলে মরিয়ামদের বাড়িতেই থাকতেন। ওবায়দুর দাবি করেন, ভাগ্নির সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে সেটি পরিবারের সামনে তুলে ধরেন তিনি। তখন মরিয়ামের মা-বাবা তা গোপন রাখতে চান। ওবায়দুর বলেন, তার বোনের স্বামী মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে। ওবায়দুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই মাসুম বিল্লাহর নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। মাসুমের কাজ ছিল শুধু দরপত্র জমা দেওয়া। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন গাজী নজরুল নিজেই।

ওবায়দুর বলেন, মাসুম কন্ট্রাক্টরির কিছুই বুঝত না। দায়িত্ব দেয় আমাকে। আমিও কিছু বুঝি না। তারপরও খেজুরের ব্যবসা বন্ধ করে টেন্ডারের বিষয়টি দেখাশোনা করছিলাম। ওবায়দুর বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সাতক্ষীরার দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে মোট পাঁচটি কাজের দরপ্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এবং বাকিগুলো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের।

ওবায়দুর দাবি করেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি পদে তাদের অনুকূল একজন প্রকৌশলীকে বদলি করে আনার জন্য এমপি নিজেই তদবির করেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের কাজ দেওয়ার জন্য ওই প্রকৌশলীকে সেখানে বসানো হয়েছিল।

মরিয়ামকে সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল দাবি করে ওবায়দুর বলেন, মেয়েকে বলা হতো সংসদে চাকরি দেওয়া হবে। আর বাবাকে বলা হতো, বড় বড় কাজ দেওয়া হবে। এই লোভ দেখিয়েই পুরো বিষয়টি চলছিল।

ওবায়দুর রহমানের দাবি, গত ২০ জুন এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের কাছে ভাগ্নির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। তখন গাজী নজরুল ‘মুতআ বিয়ে’র (অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিয়ে) ফতোয়া দিয়ে সম্পর্কটি বৈধ বলে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এরপর মুখ বন্ধ রাখতে গাজী নজরুলের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন ওবায়দুর। তার ভাষ্য, তাকে বলা হয়েছিল এমপি ঢাকায় থাকলে তিনি ওই গাড়ি চড়বেন। আর বাকি সময় গাড়িটি নিজের মতো ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন ওবায়দুর। পাশাপাশি তাকে এমপির এপিএস-২ (সহকারী একান্ত সচিব) হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ওবায়দুর বলেন, আমি যখন সবকিছু জেনে যাই, তখনই আমাকে এসব প্রলোভন দেখানো হয়।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তে’র একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তার সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম। গাজী নজরুল তখন অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই মরিয়ামের বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।

এদিকে ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভাগনির ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ প্রতিবাদ করা এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহের জেরে ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com