বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হলো রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে নতুন সরকারের বয়স পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবিধানের ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো ব্যক্তি দুবারের বেশি এই পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে- মেয়াদ শেষ হওয়া, শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করা কিংবা গুরুতর কোনো অসদাচরণজনিত কারণে অভিশংসিত হওয়া। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই পদটি শূন্য হয়েছে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ সমাপ্তির পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অথবা পদ শূন্য হওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
যদি নির্বাচন করার প্রয়োজনীয় সময়ে সংসদ অধিবেশন না থাকে, তবে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
যেভাবে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে এই নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ থাকবে। ভোট হবে সংসদ কক্ষে। সংসদের অধিবেশন না থাকলেও স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থীকে বর্তমান সংসদ সদস্য হতে হবে না। তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে।
প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি ভোট থাকে। ভোটার ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করে সেটি সংগ্রহ করেন। এর পর যাকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করেন। সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়নি ৩৬ বছর : সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই একমাত্র ভোটাভুটি হয়েছিল। বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এর পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।