মঙ্গলবার, ০৯:১৪ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে গৌরনদীতে মৎস্যজীবিদের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরন জুলাই বিপ্লব খালেদা জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফল পরিণতি: আইনমন্ত্রী    জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে  গৌরনদী পৌরবাসী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৮৮, মামলা ৫৫ সেপ্টেম্বরে ভয়ংকর হতে পারে ডেঙ্গু সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন রাজস্ব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চান ক্যানিজিয়া

গণমাধ্যমের শৃংখলা ও পেশাদারিত্ব কে সাংবাদিক, আর কে নন?

খোন্দকার কাওছার হোসেন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১ বার পঠিত

চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিতে হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন আবশ্যক। ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-র সদস্যপদ। সনদপ্রাপ্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হলে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-র সনদপত্র ছাড়া পথ নেই। কিংবা আদালতে আইন পেশায় দাঁড়াতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক।

রাষ্ট্রের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পেশাতেই যোগ্যতার সনদ ও শৃঙ্খলা রক্ষার একটি নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

কিন্তু গণমাধ্যম ব্যবস্থার দিকে তাকালে এক অদ্ভুত ও বৈপরীত্যপূর্ণ চিত্র চোখে পড়ে। যে পেশা সমাজের দর্পণ, যা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত—সেই সাংবাদিকতায় ‘কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নন’ তা নির্ধারণের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো নিবন্ধন বা সনদ প্রদানকারী নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মফস্বল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত তথাকথিত সংবাদমাধ্যমের স্টিকার লাগিয়ে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এখন নিত্যদিনের।
নিবন্ধিত কাঠামো থাকলে এই ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করা ও প্রতিহত করা সহজ হতো।
যেকোনো পেশায় প্রবেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকে। সাংবাদিকতার মতো স্পর্শকাতর পেশায় যুক্ত হতে হলে অন্তত একটি ডিগ্রি এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। এমন বিধান চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিন্তু মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার সমর্থকদের একাংশ এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় ধরনের বিপদ বা আশঙ্কা দেখতে পান।
তাঁদের মতে, গণমাধ্যম অন্য যেকোনো সাধারণ পেশার চেয়ে ভিন্ন এবং এর প্রকৃতি স্বতন্ত্র।

তাদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘সাংবাদিক’ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে তা সর্বসাধারণের কথা বলার অধিকারকে সংকুচিত করতে পারে।
যদিও মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার সমর্থকদের এই অংশটি অপসাংবাদিকতা বা ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ মূলধারার সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের মর্যাদা যে দিন দিন ধূলিসাৎ করছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করছে না।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে যে কেউ ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বা কোনো তথাকথিত ‘অনলাইন পোর্টাল’ খুলে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দাবি করছেন।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, নীতি-নৈতিকতার বোধ বা সাংবাদিকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই বুম হাতে সমাজে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টা চলছে।
এই অপসাংবাদিকতা বা ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ মূলধারার সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তির জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন এখন সময়ের দাবি।
এই কতৃপক্ষই নির্ধারণ করবে কে সাংবাদিক, কে সাংবাদিক না।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে যথার্থই বলেছেন, কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয়, তা নির্ধারণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com