বুধবার, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার হবে: ইউজিসি চেয়াররম্যান প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর ১৯তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন তরুণী! পৌনে ৭ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬,১২৫ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘বেআইনি সমকামী বিয়ে’, বিচার চাইলেন ১২৩০ নাগরিক ফেসবুক-টিকটক ব্যবহার না করার শর্তে শিশুকে হেফাজতে পেল মা নির্দেশ অমান্য করে হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

সেই পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজের স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদনে দলটির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান। লিখেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ‘অবৈধ আদেশ’ পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী জনরোষের মুখে পড়েছে। তাই ‘বাংলার মানুষের ঘৃণার পাত্র’ হয়ে আর চাকরি করতে চান না। কিন্তু প্রায় দুই বছর সেই আবেদন ঝুলে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি স্বেচ্ছায় নয়, বরং অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তি হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেন। যে অভিযোগে তার চাকরির পরিণতি নির্ধারিত হলো, সেটি আওয়ামী লীগের আমলেই ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুলিশের ইউনিফর্ম পরে অংশ নেওয়ার ঘটনা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান। তার ভাই ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। পুলিশের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় ওই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল হাইয়ের মৃত্যুতে ঝিনাইদহ-১ আসনটি শূন্য হয়। পরে ৫ জুন ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় মনিরুজ্জামানের উপস্থিতিই পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক দিনের মাথায় ১১ আগস্ট স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন মনিরুজ্জামান। সেই আবেদনে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ভাষায় অভিযোগ তোলেন।

মনিরুজ্জামান লেখেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর আগের কয়েক দিন ও বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অবৈধ আদেশ পালন করতে হয়েছে। এই আদেশ পালন করতে গিয়ে অবৈধ সরকারকে রক্ষার নামে নিজেদের ক্ষমতা ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের পথকে দীর্ঘায়িত করার মানসে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হিংস্র ও বর্বর আদেশে শিশু-কিশোরসহ বহু মানুষকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা হত্যা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বর্তমানে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।

একই আবেদনে তিনি আরও লেখেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে পুলিশ বাহিনীতে আর চাকরি করা আমার জন্য সমীচীন নয়। বাংলার মানুষের ঘৃণার পাত্র হিসেবে আমি পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করতে ইচ্ছুক নই। এ কারণে আমি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করছি।’

তবে ওই আবেদন সরকার গ্রহণ করেনি; বরং আবেদনটি দীর্ঘদিন নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় থাকে। এ সময় মনিরুজ্জামান ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে গত ১৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। ফলে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ আর পাননি তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছোট ভাই ও মনোনয়নপ্রত্যাশী ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হলে সরকারি দায়িত্বে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় প্রথমে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ চাওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক মনে হয়নি। এর পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয় কমিটি এবং বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করে।

পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তার জবাব দেননি। এর পর বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, মনিরুজ্জামানের ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকছে। কারণ, সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে স্বেচ্ছায় অবসর চাইলেও শেষ পর্যন্ত তার চাকরির পরিণতি নির্ধারিত হয়েছে সরকারের দৃষ্টিতে প্রমাণিত একটি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায়। ফলে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের চেয়ে সরকারি চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগই শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভিত্তি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com