বৃহস্পতিবার, ১১:৪১ অপরাহ্ন, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ইতিহাসের হাতছানি

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারের লড়াই যেন অন্য সব আসরকে ছাপিয়ে গেছে। একক কোনো খেলোয়াড়ের দাপট নয়, বরং চার মহাতারকার দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের দৌড়। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেইন—চারজনই এমন গোলসংখ্যা নিয়ে এগোচ্ছেন, যা সাধারণত যেকোনো বিশ্বকাপেই শিরোপা জেতানোর জন্য যথেষ্ট হতো।

বিশ্বকাপের এক আসরে দুই অঙ্কের গোল করা ফুটবল ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। প্রায় এক শতকের বিশ্বকাপ ইতিহাসে হাতে গোনা কয়েকজন খেলোয়াড়ই এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করতে পেরেছেন। অথচ এবার একসঙ্গে চারজন সেই কীর্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ আট গোল করে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনেই সাতটি করে গোল নিয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। আর ছয় গোল করে লড়াইয়ে রয়েছেন হ্যারি কেইন।

সাম্প্রতিক অনেক বিশ্বকাপেই এই গোলসংখ্যা সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল। ২০০৬ সালে পাঁচ গোল করেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন মিরোস্লাভ ক্লোসে। ২০১০ সালে একই সংখ্যক গোল করে সহায়তার হিসেবে এগিয়ে থেকে পুরস্কার জেতেন টমাস মুলার। ২০১৮ সালে হ্যারি কেইনের ছয় গোল এবং ২০২২ সালে এমবাপ্পের আট গোল ছিল ব্যতিক্রমী অর্জন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাগুলোও যেন কেবল শুরু।

এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে অন্তত আট গোল করেছিলেন মাত্র আটজন ফুটবলার। সেই তালিকায় ছিলেন জ্যুস্ত ফঁতেন, শান্দর কচিস, গার্ড মুলার, আদেমির, ইউসেবিও, গিয়ের্মো স্তাবিলে, রোনালদো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর এমবাপ্পে, হালান্ড ও কেইনও সেই কীর্তির খুব কাছাকাছি।

গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম

সর্বোচ্চ গোলদাতাকেই দেওয়া হয় এই পুরস্কার। যদি একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করেন, তাহলে বেশি গোলে সহায়তা করা খেলোয়াড় এগিয়ে থাকবেন। সেটিও সমান হলে কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলার বিজয়ী হবেন।

বর্তমান শিরোপাধারী কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ২০২২ সালে আট গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন।

লড়াইয়ে থাকা চার মহাতারকা

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)

সাত গোল ও দুটি গোলে সহায়তা করে আবারও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এমবাপ্পে। তিনি ৪৪১ মিনিট খেলেছেন। ২৬টি শটের মধ্যে ১৭টি লক্ষ্যে রেখেছেন এবং প্রায় ২৭ শতাংশ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। গ্রুপ পর্বে চার গোল ও নকআউটে তিন গোল করে ফ্রান্সের আক্রমণের মূল ভরসা তিনি। বিশ্বকাপের এক আসরে অন্তত আট গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় আগেই ছিলেন এমবাপ্পে। এবার সেই কীর্তি দ্বিতীয়বার গড়ার অপেক্ষায়।

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে)

প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই নজর কেড়েছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। সাত গোল করতে তিনি খেলেছেন মাত্র ৩৬০ মিনিট। চার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তার গোল করার হারই সবচেয়ে বেশি। ১৮টি শটের মধ্যে ১২টি লক্ষ্যে ছিল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবের চেয়েও বেশি গোল করে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

আট গোল নিয়ে এই মুহূর্তে দৌড়ে সবার ওপরে আছেন মেসি। তিনি খেলেছেন ৪১০ মিনিট, যা শীর্ষ চারজনের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ২৯টি শটের মধ্যে ১৭টি লক্ষ্যে রেখেছেন। গ্রুপ পর্বে ছয় গোল এবং নকআউটে দুটি গোল করেছেন তিনি। প্রত্যাশিত গোলের তুলনায় অনেক বেশি গোল করে আবারও নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

ছয় গোল ও একটি গোলে সহায়তা নিয়ে লড়াইয়ে আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তিনি খেলেছেন ৪৪৩ মিনিট। ১৯টি শটের মধ্যে ১০টি লক্ষ্যে ছিল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর হার ৩২ শতাংশের বেশি। দুটি পেনাল্টিই সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্ব ও নকআউট—দুই ধাপেই সমান তিনটি করে গোল করেছেন। ২০১৮ সালে ছয় গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন কেইন। এবার সেই কীর্তি ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তার সামনে।

চার তারকা, একটি পুরস্কার। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার এই প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যিনি শীর্ষে থাকবেন, তার অর্জন বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে। আর চারজনেরই লক্ষ্য শুধু গোল্ডেন বুট জেতা নয়, নিজেদের দেশকে আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের শিরোপাও এনে দেওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com