বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকপি গ্রামের বাসিন্দা আবুল বশার দেওয়ান (৫৩) বিষপানের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন আবুল বশার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন পারিবারিক বিষয় নিয়ে আবুল বশারের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ হয়। পরে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। পরদিন ১২ জুন ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বার্থী বাজারে নিজের দোকান খুলতে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা স্ত্রীর ভাই হাবুল মৃধা, আহাদ মৃধা, সিরাজ মৃধাসহ ১০ থেকে ১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় আবুল বশার নিজেই গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিভিন্ন কটূক্তি ও অপমানের শিকার হন। এসব ঘটনার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি বিষপান করেন বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের বড় ভাই কামাল দেওয়ান বলেন, “আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী, শ্যালক ও আশপাশের মানুষের আচরণে তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ছরোয়ার বলেন, “ভুক্তভোগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগটি মামলা পর্যন্ত গড়ায়নি। উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ চলছিল।”
এ ঘটনায় মৃত্যুর পর নতুন করে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।