বরিশালের গৌরনদীতে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু এবং নির্ধারিত স্থানেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মুসল্লি, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলার আশোকাঠি এলাকায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দক্ষিণ বিজয়পুর সুফী সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে পর্যাপ্ত জমির অভাবে প্রকল্পটি সেখানে বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৌরনদীর আশোকাঠি এলাকায় নতুন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং নতুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকল্পের পাইলিং কাজ শেষ হওয়ার পর মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি হঠাৎ করেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, “মডেল মসজিদটির প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা চাই নির্ধারিত স্থানেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হোক এবং দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হোক।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মডেল মসজিদ নির্মাণ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু গৌরনদীতে বারবার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান আকবর, মো. শহিদুল ইসলাম ঘরামী, মো. হুমায়ুন কবির, পৌর জামায়াতের নেতা মাওলানা হাফিজুর রহমান, মুসল্লি আবু সাঈদ, নজরুল সরদার, আরিফ ফকির, মো. সোবহান সরদার, এনামুল ফকিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, মডেল মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। তাই প্রকল্পটি নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি না করে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা জোর দাবি জানান।
এ জাতীয় আরো খবর..