সোমবার, ০৯:১৩ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বন্যা মোকাবিলায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ও ৯ হাজার টন চাল বরাদ্দ ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা ‘ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ পলিথিন, ব্যবহার না কমলে সমাধান কঠিন’ হরমুজ প্রণালীতে ‘মুক্ত’ ও ‘নিরাপদ’ জাহাজ চলাচলের আহ্বান চীনের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সহযোগিতার আশ্বাস সৌদি রাষ্ট্রদূতের মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বকাপে হতাশ করেছে এশিয়া

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। তবে এই হতাশার মাঝেও জাপান দেখিয়েছে সাহস, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার শক্তি। শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় দাপট দেখিয়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জাপান। ম্যাচজুড়ে তারা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এশিয়ার দলগুলোও বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়তে পারে।

জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মরিয়াসু ম্যাচের আগে বলেছিলেন, এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের লক্ষ্য এবং তারা অন্য এশীয় দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে চান। তার এ বক্তব্য মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হয়। তবে কাওরু মিতোমা, ওয়াতারু এন্দো, তাকুমি মিনামিনো ও তাকেফুসা কুবোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি শেষ পর্যন্ত জাপানের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার ৯টি দলের মধ্যে সাতটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শুধু জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে উঠতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে মাত্র একটি দল গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে, যা দুই মহাদেশের পারফরম্যান্সের পার্থক্য স্পষ্ট করে। ইরান তিনটি ম্যাচেই ড্র করলেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়, তবু তারা নকআউট পর্বে ওঠার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডান ও উজবেকিস্তান এবং কঠিন গ্রুপে পড়া ইরাকও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে অভিজ্ঞতার অভাব সত্ত্বেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সৌদি আরব ও কাতারের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দেশীয় লিগনির্ভরতা। বিদেশি খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ লিগে স্থানীয় ফুটবলারদের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে কানাডার কাছে কাতারের ৬-০ ব্যবধানে পরাজয় এশিয়ার অন্যতম হতাশাজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর পরবর্তী দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে তারা বিদায় নেয়। এই ব্যর্থতার পর প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো পদত্যাগ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর নীতিগত দুর্বলতাও এশিয়ার পিছিয়ে পড়ার একটি কারণ। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কাঠামোতে ভারসাম্যের অভাব এবং কয়েকটি দেশের প্রতি অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ এশিয়ার ফুটবলের জন্য অনেক শিক্ষা রেখে গেছে। জাপানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ধৈর্য ও উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বেশি এশীয় দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে। আগামী জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ সেই নতুন যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com