ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, দোকানপাট ও কয়লা ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ব্যাপক ঢলের পানি প্রবেশ করেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানি বাড়ার প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সদর উপজেলার উত্তর সুরমা এলাকার বড়বাজার-মঙ্গলকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ঢলের পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঢলের পানিতে চারাগাঁওয়ের শতাধিক কয়লা ডিপো প্লাবিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ কয়লা ভেসে গেছে এবং অনেক পাথরের স্তূপ বালুর নিচে চাপা পড়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। প্রবল স্রোতে হাওরবাংলা স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর-শক্তিয়ারকলা অংশ প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী তিনদিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।