জীবনে সবাই সফল হতে চায়। প্রত্যেকে নিজের মতো করে সুখ ও সাফল্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করে নেয়। কেউ সম্পদে, কেউ খ্যাতিতে, কেউ ভোগে খুঁজে ফেরে তৃপ্তি ও সফলতার ঠিকানা। কিন্তু এই দৃশ্যমান সফলতার আড়ালে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে যায়। আসলেই কি এসব অর্জন মানুষকে প্রকৃত সফলতা এনে দেয়, নাকি তা সাময়িক তৃপ্তির ভ্রম তৈরি করে?
ইসলাম মানুষের সামনে সফলতার এক ভিন্ন দিগন্ত উন্মোচন করে। এখানে সফলতা কেবল দুনিয়ার অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রসারিত হয়েছে পরকালের চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত। একজন মুমিনের দৃষ্টিতে দুনিয়া হলো পরীক্ষার ক্ষেত্র আর পরকাল তার ফলাফলের স্থান। তাই সে এমন পথ বেছে নেয়, যা তাকে স্থায়ী কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়।
দুই : অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা। এ সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মানুষ যখন অনর্থক কার্যকলাপ বর্জন করে তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। অনর্থক কার্যকলাপ বলতে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত নিদ্রা, মাত্রাতিরিক্ত কাপড়চোপড় তৈরি সবকিছুই বোঝানো হয়েছে। মনে রাখতে হবে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য সম্পদ। যারা সফল হতে চায়, তারা কখনো অহেতুক কাজে সময় ব্যয় করতে পারে না।
চার : আমানতদারি রক্ষা করা। আমানত শব্দ দিয়ে ওই দায়িত্ব বোঝায়, যা এমন কোনো ব্যক্তি বহন করে যার ওপর আস্থা ও ভরসা করা হয়। আমানত শব্দটি বহুবচন ব্যবহৃত হওয়ায় সব ধরনের আমানতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এই আমানত আল্লাহতায়ালার হক সংক্রান্তও হতে পারে। যেমন : ফরজ ও ওয়াজিব বিধিবিধানগুলো আদায় করা। হারাম ও মাকরুহ বিষয়াদি থেকে বিরত থাকা। বান্দার হক সংক্রান্তও হতে পারে। যেমন : কেউ কারও কাছে অর্থ-সম্পদ আমানত রাখল। তাহলে এই আমানত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত হেফাজত করা আমানতদারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ছাড়া কেউ কারও কাছে কোনো গোপন কথা বললেও কথাটি তার কাছে আমানত হিসাবে থাকে। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া কারও গোপন কথা ফাঁস করাও আমানতের খেয়ানত।
পাঁচ : অঙ্গীকার পূর্ণ করা। অঙ্গীকার বলতে এমন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বোঝায়, যা কোনো ব্যাপারে উভয়পক্ষ নিজের ওপর অপরিহার্য করে নেয়। এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ভঙ্গ করা বিশ্বাসঘাতকতা ও হারাম। একজন অন্যজনকে কিছু দেওয়ার কিংবা কোনো কাজ করে দেওয়ার এক তরফা যে অঙ্গীকার করে, তাও পূর্ণ করা ওয়াজিব। এ সম্পর্কে হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওয়াদা হচ্ছে এক ধরনের ঋণ। ঋণ আদায় করা যেমন আবশ্যক, ওয়াদা পূর্ণ করাও তেমনি আবশ্যক।’
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক