কাতারে বসবাসরত ইরফান মিয়া নামে নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের এক নেতা বর্তমানে দেশটির কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশি এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর সেই নারী গর্ভবতী হলে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা এবং অবৈধ ওষুধ সেবন করিয়ে তার জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে কাতার পুলিশ।
ইরফান মিয়া মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের রাঙ্গিছড়া গ্রামের রইছ মিয়ার ছেলে। প্রবাসে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। নিজেকে গেইল আল সাবুল ট্রেডিং সার্ভিসেস, মেটাফৌর কার সার্ভিস এবং মেটাফৌর ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাকটিং সার্ভিসেসের মালিক বলেও দাবি করতেন।
কাতারের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারী কাতারে বসবাসরত অন্য একটি দেশের নাগরিক। একটি সামাজিক অনুষ্ঠান বা ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যমে তার সঙ্গে ইরফান মিয়ার পরিচয় হয়। ওই নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইরফান তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান। পরে তিনি গর্ভবতী হলে ইরফান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
কাতারের আইনে গর্ভপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে তা করা যেতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অবৈধভাবে গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করে ওই নারীকে সেবন করান ইরফান। এতে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মনে করে কাতারের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অবহিত করে। তদন্তে ইরফানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
কাতারের পেনাল কোডের ১৫১ থেকে ১৫৩ নম্বর ধারায় অবৈধ গর্ভপাতকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে কয়েক বছর থেকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ও দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তিও দেওয়া হয়।
প্রতারণার আরও অভিযোগ
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, গর্ভপাতের ঘটনার বাইরে ইরফান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার ‘আদম ব্যবসা’ পরিচালনা করছিলেন। কাতারে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবসায় অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া এবং চেক জালিয়াতির ঘটনাও সামনে এসেছে বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।
কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তি ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
এ বিষয়ে ইরফান মিয়ার পরিবার বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে প্রশ্ন পাঠাতে বলা হয়। প্রশ্ন পাঠানোর এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা সাড়া দেননি।