আদালতের নির্দেশে অবশেষে বুধবার ভোওে অপসারিত হলো বরিশালের গৌরনদীর সেই আরফি ফিলিং স্টেশন নামের পেট্রোল পাম্পে দখলদারদের দেয়া ইট, বালু ও বাঁশের বেড়াসহ সকল প্রতিবন্ধকতা।
ফিলিং স্টেশনটির মালিক সুমাইয়া পপি জানান, তার পৈতৃক মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পটির অংশীদারিত্ব নেয়ে এলাকার মাদক সম্রাট হিরা মাঝি ও মানিক মাঝির সাথে তাদের বিরোধ চলছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলটির গৌরনদী উপজেলা শাখার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেযারম্যান ফরহাদ মুন্সিকে নিয়ে পাম্পটি দখল করে রাখেন হিরা মাঝি ও মানকি মাঝি গংরা। ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট এর পরে পাম্পটি দখলমুক্ত হলে আদালতের আদেশ নিয়ে পপির পরিবার পাম্পটি পরিচালনা করছে।
পপি আরো জানান, মামলা চলমান থাকায় আদালত গত ২৩র্মাচ পাম্পের বর্তমান অবস্থা চলমান রাখতে সেখানে স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেন। এরপর থেকে আমরা পাম্পটি পরিচালনা করছি। কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর হিরা মাঝি ও মানিক মাঝির নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন এসে পাম্পের প্রবেশ পথে বাশের বেড়া দেয়। তখন গৌরনদী মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে তারা এসেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে পামটির তেল বেচা কেনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, নতুন করে পামটি দখলের বিষয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ দেন পপি। গৌরনদী সহকারী জজ আদালতের বিচারক আইরিন আক্তার গৌরনদী মডেল থানার ওসিকে ২৩ মার্চে দেয়া স্থিতাবস্থা কার্যকরের আদেশ দেন।
পপির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ তরিকুল ইসলাম আদালতের এই আদেশ অমান্য করে দখলদারদের পক্ষ নেন। তিনি যুক্তি দেখান ২৫ সেপ্টেম্বর আদালত আদেশ দিয়েছেন। ওই দিন থেকেই স্থিতাবস্থা কার্যকর। অর্থাৎ ইট ও বালু ফেলে এবং বাঁেশর বেড়া দিয়ে হিরা মাঝি গংরা যেভাবে পাম্পের প্রবেশ পথ বন্ধ করে রেখেছেন সে অবস্থায় থাকবে। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর পপি আবারো আদালতে অভিযোগ দিলে বিচারক আইরিন আক্তার আগের আদেশই কার্য কররে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি তরিকুল ইসলাম তার অবস্থানে অনড় থাকনে।
পপি বলেন, এরপর গত ১অক্টোবর পাম্পের সামনে বালু ফেলা হয়েছে। ওই দিন ৯৯৯ কল দিলে একঘন্টা পর পুলিশ গেলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরদিন ২অক্টোবর থেকে ইট এনে স্তুপ করে বেরিকেট দেয়া হয়েছে। এরপর দখলদাররা সেখানে দেয়াল তোলার কথা বলে বেরাচ্ছিল।
সম্প্িরত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন কয়েকটি সহযোগী দৈনকে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
পাম্প মালিক পপি বলেন, গত ৫ অক্টোবর আমিপুনরায় আদালতের কাছে অভিযোগ করি। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৌরনদী সহকারী জজ আদালতের বিচারক আইরিন আক্তার স্পেসেফিক রিলিফ এ্যাক্ট ১৮৮৭ এর ৪৫ ধারার বিধান মতে সোমবার গৌরনদী মডেল থানার ওসিকে ইট, বালুর স্তুপ ও বাশের বেড়াসহ পেট্রোল পাম্পের সামনের সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণে সহয়তা করার আদেশ দেন।
আদালতের ওই আদেশের প্রেক্ষিতে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বুধবার ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ইট বালুর স্তুপ অপসারণসহ বাঁশের বেড়া ভেঙে দিয়ে পেট্রোল পাম্পের সামনের সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করেন।
পেট্রোল পাম্পের সামনের ইট বালুর স্তুপ ও বাঁশের বেড়া অপসারণের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক আদেশ প্রাপ্ত হয়ে আমরা পেট্রোল পাম্পের সামনের সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণে সহায়তা করেছি