উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক ডজনের বেশি যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রশাসনের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কিরেনিয়া ছাড়ার পর এটি পানিতে ডুবতে শুরু করে।
উস্তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে জাহাজটির ক্যাপ্টেনসহ সাতজন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর প্রায় ১০০ যাত্রীকে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে।
ফেরিটি স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এর আগের নির্ধারিত যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উস্তেল বলেন, সমুদ্রের দুটি বড় ঢেউ ফেরিটিতে আঘাত করে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করার সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত করলে জাহাজটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য সৈকতে অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়। স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে পানিতে উল্টে থাকা ফেরিটির ওপর লাইফ জ্যাকেট পরা যাত্রীদের দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কোচ নিজের নৌকা দিয়ে প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, সমুদ্র শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরিটির যাত্রা করা উচিত ছিল না। তার ভাষায়, সেদিন সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল এবং যাত্রাটি নিরাপদ ছিল না।
কোচ আরও জানান, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় এসেছিল এবং এর সামনের অংশে কিছু ক্ষতি ছিল বলে তিনি দেখেছিলেন।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটি ৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত ‘ফিলো জেট’ নামের একটি উচ্চগতির জাহাজ। এটি তুরস্কের পতাকাতলে চলাচল করত। রোববার সন্ধ্যায় পরিবহনমন্ত্রী আরিকলি জানান, জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে গেছে।
ফেরিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো ডেনিজচিলিক এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য দিতে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে এখনো দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা এবং আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী উস্তেল বলেছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং কোনো ধরনের অবহেলা পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দায়ী ব্যক্তি যে-ই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।