ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় একটি গোলাবারুদের গুদামে আগুন ধরে যাওয়ার পর ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও একাধিক বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
শনিবার কিয়েভের বুচা জেলায় এই হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার প্রায় অব্যাহত আকাশ হামলার মধ্যেই আবাসিক এলাকার কাছে থাকা ওই গোলাবারুদের গুদামে ড্রোন আঘাত হানে। গুদামে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত থাকায় হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যুদ্ধ শুরুর চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কিয়েভে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তাকাচেঙ্কো বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতি। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে হামলার ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। এতে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কোথাও শুধু কয়েকটি দেয়ালের অবশিষ্টাংশ এবং পুড়ে যাওয়া মাটি দেখা যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ড্রোন হামলায় একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণ স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে গোলা, মাইন, অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম এবং ড্রোন মজুত ছিল। হামলার পর এসব বিস্ফোরক একের পর এক বিস্ফোরিত হয়।
জেলেনস্কি বলেন, মানুষের বসতবাড়ির এত কাছে এ ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রী রাখা উচিত হয়নি। যারা সেখানে এসব সামগ্রী রাখার অনুমতি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হামলায় কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের মধ্যে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্রও ছিল। ঘটনাস্থলে ৩০০ জনের বেশি জরুরি সেবাকর্মী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে স্থানীয় পৌরসভার দীর্ঘদিনের প্রধান তারাস দিদিচও রয়েছেন। হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মানুষের সহায়তায় ছুটে গিয়ে তিনি নিহত হন। ইউক্রেনের পুনর্গঠন, অবকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রী মাইকোলা কালাশনিক বলেন, দিদিচ সবসময় স্থানীয় মানুষের পাশে ছিলেন এবং রুশ দখলদারিত্বের সময়ও তিনি জনগণকে সহায়তা করেছিলেন।
এদিকে কিয়েভে গত দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে প্রায় বিরতিহীন রুশ হামলা চলছে। একটি হিসাবে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কিয়েভে ২৮টি বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়, যার মোট স্থায়িত্ব ছিল ২৮ ঘণ্টার বেশি।
শনিবারের আরেক হামলায় গুরুতর আহত দুই বছরের একটি শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। ওই হামলায় শহরের আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শুধু কিয়েভ নয়, রাতভর ইউক্রেনের ওদেসা, দিনিপ্রো, জাপোরিঝঝিয়া, সুমি, খেরসন, খারকিভ, মিকোলাইভ, দোনেৎস্ক ও চেরনিহিভ অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। জেলেনস্কির দাবি, এসব হামলায় ২৬০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।