রবিবার, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী জলসীমা অতিক্রম করে ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে মন্ত্রণালয় নিজ দলের নেতাকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিএনপি নেতা আজাদের সব পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত জুলাই জাদুঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস বিএনপি সরিয়ে ফেলেছে: আসিফ মাহমুদ জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর প্রতিটি বাড়িঘর পাহারায় রাখা সম্ভব নয়: রাজউক চেয়ারম্যান জুলাই শেষ হবে সেদিনই, যেদিন জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে: জামায়াত আমির

বাকৃবির গবেষণা, যে পাঁচ ধরনের বিলের দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

দেশের মধ্যাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন এই প্লাবনভূমির অবস্থান বিক্রমপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায়। এ বিলের দৈর্ঘ্য ২৬ মাইল এবং প্রস্থ ১০ মাইল। অর্থাৎ মোট আয়তন ২৬০ বর্গমাইল বা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ একর।

পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, রজত রেখা, ইছামতী নদী বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ জেলা। আর ভূখণ্ডটি নিচু হওয়ায় এখানকার মানুষের অন্যতম চাহিদা বর্ষা এলেই আড়িয়াল বিলের আশপাশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ছোট মাছ ধরে বেচা-কেনা করেন শত বছর আগে থেকেই।

এ বিলের মাছ নিয়মিত ঢাকাসহ আশপাশের বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে যুগের পর যুগ। ২০২৪ সালের বর্ষায়, এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে বিলের পাঁচটি স্থান থেকে পানি ও তলানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সময়ে ৫ প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছ সংগ্রহ করে সেগুলোর অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশী আলাদাভাবে পরীক্ষা করে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।

মাছগুলো হলো কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি। এসব মাছের মাংসপেশী ও অন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। এর আগে চলন বিল ও হাওর অঞ্চলের মাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন তারা। তবে আড়িল বিলে এ প্রথম।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কই মাছে। গবেষকেরা বলছেন, কই মাছ সর্বভুক স্বভাবের হওয়ায় তলানি ও প্লাঙ্কটনের সঙ্গে মিশে থাকা প্লাস্টিক কণাও সহজে গ্রহণ করে। ফলে অন্য মাছের তুলনায় এ মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি দেখা গেছে।

আড়িয়ল বিল পদ্মা নদীর মাঝখানে ছিটমহলসম জলাভূমি অঞ্চল জেলা জুড়ে। জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী জার্নাল অব হ্যাজার্ড ম্যাটেরিয়ালস অ্যাডভান্সেস গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা অবশ্য বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঢাকার কয়েকটি হ্রদ, সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ ও চিংড়িতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে গবেষণা তথ্য বলছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক গবেষণা দলের প্রধান মো. শাহজাহান বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সবখানেই তবে বিলের মাছের অন্ত্র ও মাংসপেশীতে এটা পাওয়া যাওয়া উদ্বেগজনক। যদিও এসব মাছ খেয়ে সরাসরি ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি থাকতে পারে, ও শরীরে জমতে থাকা এ ধরনের উপাদান হয়তো ৫ থেকে ১০ বছরে বোঝা যাবে না।

মধ্যে বয়সের পর এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এর প্রভাব যেতে পারে। তবে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।

পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, রজত রেখা, ইছামতী নদী বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ জেলা। আর ভূখণ্ডটি নিচু হওয়ায় এখানকার মানুষের অন্যতম চাহিদা বর্ষা এলেই ছোট মাছে এক মাত্র ভরসা শত বছর আগে থেকেই।

বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানকার উপজেলা ও গ্রামগুলোসহ আনাচে-কানাচে বেশির ভাগ, লৌহজং ও শ্রীনগর এবং সিরাজদিখান, এর বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ছোট মাছ ছাড়া একেবারেই হাটবাজার মাছ শূন্য জেলেরা অকেজু হয়ে পড়ে। তাই চলতি মৌসুমে ছোট মাছে হাঁক-ডাক গরম।

অন্যদিকে ছোট আকারের সর্বভুক পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে সুতার মতো আকৃতির কণা। তবে গবেষকদের ভাষ্য, আড়িয়ল বিল এবং এই বিলের কই, বাটা, পুঁটি, গুলশা টেংরা ও মেনি মাছ নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com