বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার গৌরনদী প্রতিনিধি এস.এম. জুলফিকারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকদের জোরালো দাবির পর এই গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উত্তর বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফারুক উকিল (৫৭), পিতা- মৃত আফছের উকিল এবং গৌরনদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাওড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সবুজ হাওলাদার (৪৫), পিতা-মৃত আবুল কাশেম হাওলাদার। উভয়ের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বরিশালের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার মোটর মেকানিকের ওপর হামলার ঘটনা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন সাংবাদিক এস.এম. জুলফিকার। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হলে সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি গৌরনদী মডেল থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।
এ ঘটনার পর গৌরনদীসহ বরিশালের সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হামলার প্রতিবাদে গৌরনদী প্রেসক্লাব, গৌরনদী রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, দুই আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও মামলার বাকি এজাহারভুক্ত আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা না হলে সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই বাকি আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিক মহল বলছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রবণতা কমবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা পরিচালনার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..