সোমবার, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
সাভারে টিন কেটে দুঃসাহসিক চুরি, ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে মাদ্রাসার বাথরুম থেকে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানাল উত্তরা ইউনিভার্সিটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইইউবিএটিতে অনুষ্ঠিত হলো উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা সমুদ্রে গোসলের সময় শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ না পরার আহ্বান মন্ত্রীর রংপুরে সালিসে ধর্ষণের বিচার, জরিমানার টাকা মেম্বারের পকেটে অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ বেজার জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনজীর ইস্যুতে আমিরাতের সঙ্গে কথা বলেছে সরকার

রংপুরে সালিসে ধর্ষণের বিচার, জরিমানার টাকা মেম্বারের পকেটে

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

রংপুরের বদরগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে ঘরোয়া সালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইনি পদক্ষেপ এড়িয়ে অভিযুক্তকে শারীরিক নির্যাতন, জরিমানা আদায় এবং গ্রাম ছাড়া করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ঘটনাটি রফাদফা করেছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও একটি প্রভাবশালী মহল।

পরবর্তীতে জরিমানার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউপি সদস্য ও সালিসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। আজ সোমবার উপজেলার ৭ নম্বর গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ডের হাট মিজু চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ সাঈদুল ইসলাম একই এলাকার ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আইনানুযায়ী বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে ধামাচাপা দেওয়ার উদ্যোগ নেন স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজমুল হক।

তার উদ্যোগে আজ সোমবার বিকেলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ইউপি সদস্য নাজমুল হকের পরিচালনায় সেখানে অভিযুক্ত সাঈদুল ইসলামকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং গ্রামে না ফেরার শর্তে মুচলেকা নিয়ে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার নামে মূলত অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই সালিসের মূল উদ্দেশ্য। দেশের প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে ভুক্তভোগী ও অপরাধী উভয় পক্ষকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চালিয়েছে ওই প্রভাবশালী চক্রটি।

ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য নাজমুল হকের মতামত জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাননি।

একজন নাবালিকা ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ও নন-কম্পাউন্ডেবল (আপস-অযোগ্য) ফৌজদারি অপরাধের বিচার স্থানীয় সালিসে করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার কখনও টাকার বিনিময়ে বা গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে হতে পারে না। সালিসের নামে মূলত অপরাধীকে আইনের হাত থেকে বাঁচানো হয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষক এবং অবৈধ সালিসকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল না ধরায় কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com