সোমবার, ১২:১৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

সেমিফাইনালে আগুনঝরা দুই লড়াই, কারা এগিয়ে ফাইনালের পথে?

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

বিশ্বকাপের পর্দা নামার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। দীর্ঘ এক মাসের লড়াই শেষে ৪৮ দলের মধ্য থেকে এখন শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে মাত্র ৪টি দল—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন। স্বাগতিক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্রাজিল, জার্মানির মতো শক্তিশালী দলও ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে।

এখন সবার চোখ দুটি মহারণের দিকে—ফ্রান্স বনাম স্পেন এবং ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা।

ফ্রান্স–স্পেন: আক্রমণ বনাম নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের লড়াই

ফ্রান্স এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। ছয় ম্যাচের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়ে তারা করেছে ১৬ গোল। সেনেগাল, ইরাক, নরওয়ে, সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে তারা।

ফরাসিদের আক্রমণের প্রধান ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আট গোল ও তিনটি সহায়ক পাস নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার। পাশাপাশি ওসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের ধারাবাহিক নৈপুণ্য দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে স্পেন খুব বেশি ঝলমলে না খেললেও ছিল অত্যন্ত কার্যকর। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।

স্পেনের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন মিকেল মেরিনো। বদলি হিসেবে নেমে শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল—দুই ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন, যা তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার প্রমাণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফ্রান্সের আক্রমণকে থামাতে চাইবে। তবে এমবাপ্পের গতি এবং পাল্টা আক্রমণের দক্ষতা ফরাসিদের বড় অস্ত্র।

বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষকের ভবিষ্যদ্বাণীতেও রয়েছে বিভক্ত মত। কেউ ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছেন, আবার কেউ মনে করছেন স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে।

ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা: মেসি নাকি বেলিংহাম?

ইংল্যান্ডের যাত্রা খুব সহজ ছিল না। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দারুণ শুরু করলেও এরপর ঘানা, কঙ্গো, মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করে শেষ চারে পৌঁছেছে তারা।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠেছেন জুড বেলিংহাম। ছয় গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়েও আছেন। পাশাপাশি অধিনায়ক হ্যারি কেইন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার পথ ছিল আরও নাটকীয়। গ্রুপ পর্বে সহজে উত্তীর্ণ হলেও নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে সেমিফাইনালে এসেছে তারা।

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন দলের প্রাণভোমরা। আট গোল ও একটি সহায়ক পাসের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে দুর্বলতা থাকলেও মেসির অসাধারণ নৈপুণ্য সেই ঘাটতি অনেকটাই ঢেকে দিচ্ছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা তাদের বড় সম্পদ।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসেও রয়েছে মতভেদ। কেউ ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন, কেউ আবার মনে করছেন ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে আর্জেন্টিনাই সুবিধা পাবে।

সব মিলিয়ে, দুটি সেমিফাইনালই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই। একদিকে এমবাপ্পে ও স্পেনের রক্ষণ, অন্যদিকে মেসি ও বেলিংহামের মুখোমুখি সংঘর্ষ—এই চার দলের মধ্য থেকেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com