শনিবার, ০৫:২৯ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা পাকিস্তান ভাঙতে চাননি শেখ মুজিব, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি-স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই দেশে ফিরুন-হাসিনাকে আসিফ নজরুল পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেপ্তার হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মির অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পর দেশে ফিরলেন সৌরভ, আত্মগোপনে আরিফ বাকি সব সরকার পালিয়ে যায়, হারিয়ে যায়, কিন্তু বিএনপি সরকার বারবার ফিরে আসে-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ১৩ জুলাই সফর সফল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ

চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মির অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পর দেশে ফিরলেন সৌরভ, আত্মগোপনে আরিফ

মো.মোস্তফা হাওলাদার 
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার দুই যুবককে কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে রাখা, বেতন না দেওয়া এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের এক মাসের মধ্যে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর তাদের জব্দ করে রাখা পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। পরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সৌরভ মোল্লা দেশে ফিরতে সক্ষম হলেও আরিফ হোসেন এখনো কম্বোডিয়ায় আত্মগোপনে থেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত ৮ জুন ২০২৬ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বেপারী ও তার ছেলে ছিয়াম হোসেন উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই যুবকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার পর তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠান। সেখানে গিয়ে তারা প্রতিশ্রুত চাকরি না পেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার চাপের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
দেশে ফিরে সৌরভ মোল্লা বলেন, বিদেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কামাল হোসেন পরিচালনা করেন। আর বাংলাদেশে তার স্ত্রী সোহেলী বেগম ও ছেলে ছিয়াম হোসেন বিভিন্ন ধাপে টাকা গ্রহণ করেন, যার স্থানীয় সাক্ষীও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সৌরভের ভাষ্য, সংবাদ প্রকাশের পর তাদের পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। এরপর তারা সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেলেও কোনো বৈধ চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর পরিবারের পাঠানো বিমান ভাড়ার টাকায় তিনি দেশে ফিরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে তাদের ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং এখনো কম্বোডিয়ায় থাকা আরিফকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
কম্বোডিয়া থেকে মুঠোফোনে আরিফ হোসেন বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর পাসপোর্ট ফিরে পেলেও তিনি এখনো দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সবসময় গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরিফ জানান, তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সৌরভের বাবা মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ধার-দেনা ও জমিজমা বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আগৈলঝাড়া বাজারের ব্যবসায়ী ও সৌরভের চাচাতো ভাই মো. আতিক মোল্লা বলেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু দুটি পরিবারের নয়, দেশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, আগৈলঝাড়া থানা, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা এসেছে এবং বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. কামাল হোসেন বলেন, দুই যুবককে কম্বোডিয়ায় পাঠানোর জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন। তার দাবি, তাদের কনস্ট্রাকশন খাতে কাজের উদ্দেশ্যে ট্যুরিস্ট ভিসায় নেওয়া হয়েছিল। তবে জিম্মি করে রাখা, পাসপোর্ট জব্দ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বেতন না দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। টাকা লেনদেনের সাক্ষী হিসেবে তিনি মো. মাহাবুব ডাক্তার নামের এক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সংবাদ প্রকাশের পর পাসপোর্ট ফেরত পাওয়া ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও অভিযোগের মূল বিষয়গুলোর এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। একজন ভুক্তভোগী দেশে ফিরলেও অপরজন এখনো বিদেশে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সচেতনতামূলক বার্তা: বিদেশে চাকরির প্রলোভনে যাওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপত্র, ভিসার ধরন, কর্মচুক্তি এবং নিয়োগকর্তার তথ্য যাচাই করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই ট্যুরিস্ট ভিসায় চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া নিরাপদ নয় এবং প্রতারণার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com