বরিশালের গৌরনদীতে অভিযান চালিয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ মো. আব্দুর রহমান (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার এবং পুরোনো মাদক কারবারিদের পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আল-আমিন এতিমখানা ও কারিগরি বিদ্যালয়ের সামনের পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন আব্দুর রহমানকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রহমান গৌরনদী উপজেলার ৬ নম্বর বাটাজোর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁকুড়া গ্রামের মৃত আবু তালেব সরদারের ছেলে।
এ ঘটনায় এসআই মো. ফিরোজ আলম বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-৩৭ এবং জিআর নম্বর-২০৮।
পুলিশের তথ্যমতে, আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। চলতি বছরের ১১ মার্চ একই আইনে তার বিরুদ্ধে গৌরনদী থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একাধিক মামলার আসামি হয়েও তিনি পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গৌরনদীতে মাদক ব্যবসার বিস্তার তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই মাদকের ভয়াবহতা কমবে না, বরং মাদক সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..