বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সুফল পাচ্ছে ইরান। আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে দেশটি তেল রপ্তানি থেকে আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখেছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইরানের দৈনিক তেল বিক্রয়লব্ধ আয় আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান তেল খাত থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল। তবে মার্চ মাসে তা এক লাফে বেড়ে দৈনিক প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এক মাসের ব্যবধানে এই আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম। ইউএস-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনার প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ইরান অনেক বেশি মূল্যে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। সরবরাহ সংকটের কারণে আগে ইরানকে যে বড় অঙ্কের ছাড় বা ‘ডিসকাউন্ট’ দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, এখন সেই প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। ফলে তেহরান এখন প্রায় আন্তর্জাতিক বাজারদরের কাছাকাছি মূল্যে তেল সরবরাহ করতে পারছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের চাপ মোকাবিলায় ইরান বর্তমানে বেশ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক অবস্থানকে নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া ট্যাঙ্কার বহর ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে তেল রপ্তানি সচল রেখেছে। এক্ষেত্রে চীনের শোধনাগারগুলো ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিকল্প পথ এবং শক্তিশালী সরবরাহ চেইন ব্যবহার করে ইরান তাদের জ্বালানি রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যতদিন পর্যন্ত আঞ্চলিক অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট কাটবে না, ততদিন ইরানের এই আয়ের ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর পদক্ষেপ ইরানের এই রপ্তানি কৌশলের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।