অন্য ভাষায় :
রবিবার, ০৪:৪২ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

জমজম কূপের অলৌকিকতা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২
  • ৬৬ বার পঠিত

সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বোর্ডের অধীনে ‘জমজম’ কূপের ওপর একটি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। ওই বোর্ডের সভাপতির ভাষ্যমতে, জমজমের পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০.৬ ফুট নিচে। প্রতি সেকেন্ডে ক্রমাগত আট হাজার লিটার হারে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পাম্প করা হয়। তখন পানির পর্যায় ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৪৪ ফুট নিচে নেমে যায়। কিন্তু যখন পাম্প করা বন্ধ করা হয় তখন এর পর্যায় মাত্র ১১ মিনিটে আবার ১৩ ফুট উচ্চতায় ফিরে আসে। প্রতি সেকেন্ডে আট হাজার লিটার এবং প্রতি মিনিটে চার লাখ ৮০ হাজার লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। সে হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় ২৮.৮ মিলিয়ন লিটার ও প্রতিদিন ৬৯১.২ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। নিশ্চয় এটা আল্লাহর কুদরতের একটি বড় নিদর্শন।

জমজমের পানির উৎস : জমজমের পানির উৎস তিনটি বলে ধারণা করা হয়।
১. কাবাঘরের নিচ থেকে হাজরে আসওয়াদ হয়ে একটি পয়েন্ট; ২. সাফা পাহাড়ের নিচ থেকে একটি পয়েন্ট ও ৩. মারওয়া পাহাড়ের নিচ থেকে একটি পয়েন্ট।
জমজম কূপের মুখ থেকে নিচে ৪০ হাত পর্যন্ত প্লাস্টার করা। তার নিচে আরো ২৯ হাত কাটা পাথর বিছানো। এসব পাথরের ফাঁক দিয়েই পানির তিনটি প্রবাহ নির্গত হয়।
জমজম কূপের বর্তমান চিত্র : বাদশাহ আবদুুল আজিজ বিন সৌদের হাতে বর্তমানে ‘জমজম’ কূপ আধুনিক রূপ নিয়েছে। তিনি কূপের পূর্ব-দক্ষিণে পানি পান করানোর জন্য দু’টি স্থান নির্মাণ করেন। দক্ষিণ দিকে ছয়টি এবং পূর্ব দিকে তিনটি ট্যাপ লাগান। কাবাঘরের ২১ মিটার দূরে অবস্থিত কূপটি থেকে ২০ লক্ষাধিক ব্যারেল পানি প্রতিদিন উত্তোলিত হয়। কূপটি বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে। কূপের পানি বণ্টনের জন্য ১৪০৩ হিজরিতে সৌদি বাদশাহর এক রাজকীয় ফরমান অনুযায়ী হজ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘ইউনিফায়েড জমাজেমা দফতর’ গঠিত হয়। এ দফতরে একজন প্রেসিডেন্ট, একজন ভাইস প্রেসিডেন্টসহ মোট ১১ জন সদস্য ও পাঁচ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।

জমজমের পানি পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণ : সৌদি সরকার জমজমের পানি সংরক্ষণ ও বিতরণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে। প্রতি ঘণ্টায় এ পানির অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের সভাপতি জুহাইর নাওয়াব জানান, জমজম কূপের পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়মিতভাবে জমজম কূপের পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন জমজমের অবস্থা নিরীক্ষণ করে। প্রতিদিন গবেষণার জন্য পানির তিনটি নমুনা সংরক্ষণ করা হয়; যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো রূপ দূষণ ঘটেনি। গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। জমজমের পানি সুরক্ষার জন্য ব্রেইনলেস স্টিলের পাইপের মাধ্যমে শীতলীকরণ কেন্দ্রে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাভাবিক পানিতে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম। যদি এই মাত্রা বৃদ্ধি পায় তা হলে সেই পানি কিডনি ও লিভারের জন্য ক্ষতিকারক এবং ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। জমজমের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম। মক্কার পানি বিতরণ কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনে জমজমের পানি বোতলজাত করা হয়। সৌদি আরবের জিওলজিক্যাল সার্ভের একটি ‘জমজম স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ আছে। যেখানে কূপের পানির মান গভীরতা, অম্লতার মাত্রা ও তাপমাত্রার দিকে নিয়মিত নজর রাখা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে জমজম কূপের পানি রফতানি করা হয় না। সৌদি সরকার জমজমের পানির অবৈধ বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে।

জমজমের পানির ফজিলত :
১. রাসূল সা:-এর সাক্কে ছাদার বা বক্ষবিদীর্ণ করে জিবরাইল আ: জমজমের পানি দিয়ে তা ধৌত করেন। (বুখারি-৩৩৪২)
২. রাসূল সা: বলেন, ভূপৃষ্ঠের মধ্যে সর্বোত্তম পানি জমজমের পানি। তাতে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির খাদ্য ও অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য রয়েছে। (তাবরানি-১১১৬৭)
৩. রাসূল সা: বলেছেন, যে উদ্দেশ্যে জমজমের পানি পান করা হয়। আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন। (ইবনে মাজাহ-২৪৩)
৪. বিদায় হজের সময় রাসূল সা: জমজমের পানি খুব বেশি পরিমাণে পান করেছেন, চোখে দিয়েছেন ও মাথায় ঢেলেছেন। ষষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়া নামক স্থানে অবস্থানকালে রাসূল সা: মক্কা থেকে পানি আনিয়ে পান করেন এবং সাথে করে মদিনায় নিয়ে যান।
৫. সাহাবিরা ও আগের মনীষীরা মেহমানদের জমজমের পানি উপহার দিতেন। (আখবারে মক্কা)

জমজমের পানি পানের নিয়ম :
১. দাঁড়িয়ে পান করা। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ সা: দাঁড়িয়ে জমজমের পানি পান করেছেন।

২. তিন ঢোকে পান করা।

৩. জমজমের পানি পানের সময় এই দোয়া পড়া : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়া ওয়া রিজকান ওয়াসিয়া ওয়া শিফাআন মিন কুল্লিদা’ইন। অর্থাৎ হে আল্লাহ। আমি আপনার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক ও যাবতীয় রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করছি। (দারে কুতনি-৪৬৬)

লেখক : অধ্যাপক, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com