শুক্রবার, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বার্থী ইউনিয়নে আলোচনার শীর্ষে শরীফ সাহাবুব হাসান এশিয়ান আর্চারিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বর্ণ জয় লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস পদে বিচারকের বৈধতা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না: সিইসি জাপান থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু সালমান শাহ হত্যা মামলা : ডনের জামিন ফের নামঞ্জুর ইসরায়েলে নির্বাচন : আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির মানবতাবিরোধী অপরাধ : মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

যেভাবে দাঁতের যত্ন নেবেন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০২২
  • ৪০১ বার পঠিত

দাঁত ও মুখগহ্বরের জন্য ক্ষতিকর বদভ্যাসগুলোর অন্যতম ধূমপান। ধূমপায়ী দাঁত ও মুখের সঠিক যত্ন না নিয়ে দাঁতের রোগের ঝুঁকি বয়ে আনে।

ক্ষতি হয় যা : ধূমপানে তামাকের নিকোটিনের প্রভাবে দাঁতে দাগ পড়ে। দাঁতে পাথর বা ক্যালকুলাস ও ডেন্টাল প্ল্যাক নামক জীবাণুর আস্তর জমার আশঙ্কা বাড়ে। ধূমপানে মাড়িতে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে দাঁতের শেকড়ের চারপাশে পুষ্টি সরবরাহ বিঘ্নিত। দেখা দেয় দুর্গন্ধ। ধূমপানে মুখের তালুতে দেখা দেয় প্রদাহ। ধূমপায়ীর দাঁত তোলার পর ঘা শুকোতে দেরি হয়, যা ড্রাই সকেট নামে পরিচিত। শুধু তা-ই নয়, ধূমপায়ীর মুখগহ্বরের কোনো অস্ত্রোপচার হলে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকায় না। মুখগহ্বরের ক্যানসারের জন্যও দায়ী ধূমপান। গবেষণায় দেখা গেছে, মুখগহ্বরের ক্যানসারের জন্য ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী ধূমপান। শুধু ধূমপানই নয়, যারা তামাক পাতা চিবোন, তাদের ক্ষেত্রেও মুখগহ্বরের ক্যানসারের আশঙ্কা রয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন, তাদের মাড়িরোগ ও দাঁতের ইমপ্ল্যান্ট চিকিৎসার সাফল্যের হার কম। ধূমপায়ীর খাবার বিস্বাদ মনে হতে পারে। জিহ্বায় কালো দাগ পড়তে পারে, যা ‘ব্ল্যাক হেয়ারি টাং’ নামে পরিচিত।

দাঁত ও মুখগহ্বরের যত্নে করণীয় : ধূমপান ও তামাক চিবানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রতি তিনমাস অন্তর দাঁত ও মুখগহ্বর পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা করাতে দ্রুত। ধূমপায়ীর নিয়মিত দাঁতের স্কেলিং করিয়ে নেওয়া জরুরি। দিনে দুবার দাঁত মাজতে হবে। ব্যবহার করতে হবে ফোস। জীবাণুরোধী মাউথওয়াশও ব্যবহার করা যেতে পারে। ধূমপানে মুখগহ্বরে ক্যানসারের সূত্রপাত ঘটল কিনা, তা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। ধূমপায়ীর মাড়ি থেকে নিয়মিতভাবে রক্ত পড়লে, মুখের ভেতরে লাল, সাদা বা গাঢ় রঙের কোনো দাগ দেখা দিলে, মাড়ি, ঠোঁট বা মুখগহ্বরের কোনো ফোলা বা গোটা দেখা দিলে, মুখের ভেতরে ব্যথা, অসারতা বা অনুভূতিহীনতা সৃষ্টি হলে কিংবা মুখগহ্বর, মাড়ি বা ঠোঁটে দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরেও শুকাচ্ছে না- এমন কোনো ঘা থাকলে ক্যানসারের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে তা পরীক্ষা করাতে হবে।

ধূমপানে মুখগহ্বর শুষ্ক হয়ে স্বাভাবিক লালা নিঃসরণ কমে যায়। ফলে দাঁতে জমা খাদ্যকণিকা সহজে পরিষ্কার হতে পারে না, বিস্তার লাভ করে ব্যাকটেরিয়া। ধূমপানে মুখগহ্বরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা ব্যাকটেরিয়োর বিস্তারে সহায়ক। ফল হিসেবে দাঁতে দেখা দেয় ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় রোগ, মাড়িরোগ, এমনকি মুখের দুর্গন্ধ। ধূমপানজনিত মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য সবার আগে দরকার ধূমপান বন্ধ করা। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও মাউথওয়াশ ব্যবহারে মুখগহ্বরে জমা হওয়া ধূমপানজনিত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পরিষ্কার হয়ে মুখের দুর্গন্ধ কমে আসতে পারে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য চিবোনো যেতে পারে চুইংগাম। ধূমপানে দাঁতের অ্যানামেল নামক বাইরে আবরণে জমা হয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, বিবর্ণ হয়ে পড়ে দাঁত। স্কেলিং করে দাঁতে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান পরিষ্কার করে ফেলা যায়। দাঁত সাদা করার টুথপেস্ট বাজারে পাওয়া যায়, দাঁতের স্বল্পমাত্রার বিবর্ণতার ক্ষেত্রে এটি কাজে আসতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দাঁতের ব্লিচিং করানোর দরকার হতে পারে। ব্লিচিং উপাদানে রয়েছে হাউড্রোজেন পারঅক্সাইড বা কার্বামাইড পারক্সাইড, যা বিবর্ণ দাঁত সাদা করতে পারে। ব্লিচিং করানোর জন্য যেতে হবে ডেন্টাল ক্লিনিকে। ঘরে ব্যবহারের জন্য ‘ব্লিচিং কিট’ ও বাজারে কিনতে পাওয়া যায় আজকাল।

ধূমপায়ীদের ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তাদের ঠোঁটের যত্নে কিছু উপদেশ মেনে চলা উচিত। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এতে শরীর থেকে ধূমপানজনিত বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যাবে। লিপ বাম বা লিপ জেল ব্যবহার করে ঠোঁট আর্দ্র রাখতে হবে। লিপ বাম বা লিপ জেল এ থাকতে হবে সানস্ক্রিন যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে। সপ্তাহে একদিন ঠোঁটে লেবুর রস লাগালে তা ঠোঁটের কালো রঙ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। মধু ও বেকিং সোডা মিশিয়ে ঠোঁটে প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে সপ্তাহে একদিন।

কারণ মধুতে রয়েছে আর্দ্রতা রক্ষাকারী উপাদান। আর বেকিং সোডায় রয়েছে রঙ হালকা করার ব্লিচিং উপাদান। ধূমপায়ী ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এ ভিটামিনগুলো ধূমপানের কারণে ঠোঁটের ক্ষতিগ্রস্থ কোষ পুনর্জীবিত করতে পারে।

লেখক : ডেন্টাল স্পেশালিস্ট

তায়েফ ডেন্টাল হাসপাতাল, সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সৌদি আরব

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com