বুধবার, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
আন্দোলনকারীদের উসকে দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে: সর্ব মিত্র চাকমা এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন দাবি ভুক্তভোগীর, অস্বীকার অভিযুক্তের, নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘ ২০ বছর পর কলকাতায় যাচ্ছেন তসলিমা নাসরিন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ‘স্টার্টআপ উদ্যোক্তাকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা করার চেষ্টা করব’ সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি অবসরে আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বাঁধ মেরামত ও নদী তীর সংরক্ষণে জোরালো ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঘটনা স্বীকার করলেও বিস্তারিত বলেননি কনেস্টবল নাজমুল

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ২১৭ বার পঠিত

কপালে টিপ পরা নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে কটুক্তি এবং হেনস্তা করার ঘটনা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেক। তবে ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানাননি তিনি।

টানা দুই দিন সাঁড়াশি তদন্তের পর সেই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশক সদস্যকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরিমধ্যে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছে এবং হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।

প্রভাষক লতা সমাদ্দার গত শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি পুলিশের পোশাক পরা একজনের বিরুদ্ধে ‘ইভটিজিং’ এবং ‘প্রাণনাশের চেষ্টার’ অভিযোগ করেন। এই খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। হেনস্থাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রোববার সংসদে দাবি জানান সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। এরপর থেকে অভিযুক্ত পুলিশকে খুঁজছিলো তেজগাঁও থানার পুলিশ।

অবশেষে দুই দিন তদন্তের পর শনাক্ত হন সেই পুলিশ সদস্য। তার নাম নাজমুল তারেক। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সুরক্ষা বিভাগের কনস্টেবল নাজমুল তারেক। ভুক্তভোগীর বর্ণনা ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাতে শনাক্ত করে তেজগাঁও বিভাগের একটি দল।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত ও ঘটনার সত্যতা তুলে আনা হবে বলেও জানান তিনি।

বিপ্লব কুমার বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজমুল প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন যে সেদিন লতা সমাদ্দারের সাথে তার কিছু একটা হয়েছিলো। কিন্তু ঠিক কি হয়েছিলো তা এখনও নিশ্চিত করেনি নাজমুল। পুলিশ বলছে, লতা সমাদ্দারের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাজমুলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিসি বিপ্লব বলেন, হেনস্তার অভিযোগে শিক্ষিক লতা সমাদ্দার শুধু একজন পুলিশ সদস্যের কথা বলেছিলেন। অন্য কোনো পরিচয় নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, ডিএমপি কমিশনার, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনার যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক আমরা গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত শুরু করি।

সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ও অ্যানালগ সব পর্যায়ে তদন্ত করে কনস্টেবল নাজমুলের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি। তার মোটরসাইকেল নম্বর ধরেও নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নাজমুল কনস্টেবল হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত। শনাক্তের পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কুমার বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত কনস্টেবল নাজমুল তারেকের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এখন টিপ পরা বা ইভ টিজিং সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করব। আমাদের প্রাথমিক কাজ ছিল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা।

যেহেতু জিডিতে অভিযুক্তের নাম, পদবি ও মোটরসাইকেলের নম্বর পরিপূর্ণ ছিল না। শুধু সংক্ষিপ্ত বিবরণী ছিল। তবে আমরা চেষ্টা করে পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি

তার বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ কী? জানতে চাইলে উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘সব জায়গায় ঘটনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সংসদেও আলোচনা হয়েছে।তবে আলোচনা হোক বা না হোক, আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করি। এ ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের ব্যবহার করা মোটর সাইকেলটি চুরির কি না বা কিভাবে তার কাছে এলো তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কলেজে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্তের শিকার প্রভাষক ডক্টর লতা সমাদ্দার।

তিনি অভিযোগ করেন, কলেজে হেঁটে যাবার সময় পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাঁড়িওয়ালা একজন ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তির গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে তার পায়ের ওপর দিয়েই বাইক চালিয়ে চলে যান সেই ব্যক্তি। এতে তিনি আহত হন। পরে এ ঘটনায় শেরে বাংলানগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com