বুধবার, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
হাসনাত ও মোশাররফ করিমের পাশে আছি: তাসনিম জারা দুই হত্যা মামলায় দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর সংসদে এমপি নুরুল আমীন, ঈদুল আজহা গেল, এখনও মে মাসের বেতন পাননি মাদ্রাসার শিক্ষকরা হত্যার অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় এসপি-ওসি আহত, ডিসির গাড়ি ভাঙচুর রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা: রেলমন্ত্রী আগামীতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে : কৃষিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি : মির্জা ফখরুল সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয়, নিয়ম মেনে চলতে হবে : স্পিকার যুদ্ধ শেষে আরও শক্তিশালী ইরান, প্রশ্নের মুখে মার্কিন আধিপত্য: বিবিসির বিশ্লেষণ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা : শীর্ষে ঢাকা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ১৬৯ বার পঠিত

সারাদেশে ২০২২ সালে ৪৪৬ জন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আত্মহত্যা করেছেন ৮৬ জন শিক্ষার্থী। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে আত্মহত্যাকারী এসব শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘আঁচল ফাউন্ডেশনের’ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ‘স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা; সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদন তুলে ধরে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শাহরিনা ফেরদৌস ও আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ।

সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের টিম লিডার ফারজানা আক্তার লাবনী জানান, ফাউন্ডেশনের তরুণ গবেষকরা দেশের দেড় শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে সমন্বয় করা ফলাফল আজ উপস্থাপন করা হলো।

আত্মহত্যার পরিসংখ্যানে শিক্ষার্থীরা
দেশের পত্রপত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে সর্বমোট স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ের আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪৬ জন। এর মধ্যে স্কুল ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৪০ জন। কলেজ ও সমমান পর্যায়ে ১০৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এদের মাঝে শুধু মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৫৪ জন। এদের মাঝে নারী শিক্ষার্থী ২৮৫ জন এবং পুরুষ শিক্ষার্থী ১৬১ জন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৮৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

মাসভিত্তিক পর্যালোচনা
সমন্বয়কৃত তথ্যের মাসভিত্তিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, স্কুল এবং কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত বছরের জানুয়ারিতে ৩৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ জন, মার্চে ৪১ জন, এপ্রিলে ৫০ জন, মে মাসে ৪৫ জন, জুনে ৩১ জন, জুলাইয়ে ৪০ জন, আগস্টে ২১ জন, সেপ্টেম্বরে ৩২ জন, অক্টোবরে ৩০ জন, নভেম্বরে ৪৯ জন এবং সর্বশেষ ডিসেম্বরে ৩৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। দেখা যায়, এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক স্কুল এবং কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন, যা ছিল ৫০ জন। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৭ জন স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহননের দিকে এগিয়ে গেছেন।

শীর্ষে ঢাকা
দেশের মোট আটটি বিভাগে আত্মহত্যাকারী স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, যা ২৩.৭৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ১৭.২৭ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ১৬.৮১ শতাংশ। এছাড়াও খুলনা বিভাগে ১৪.১৩ শতাংশ, রংপুরে ৮.৭৪ শতাংশ, বরিশালে ৮.৫৩ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.২৭ শতাংশ এবং সিলেটে ৪.৪৮ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

আবারো এগিয়ে নারীরা
আত্মহত্যা করা স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী ৬৩.৯০ শতাংশ এবং পুরুষ ৩৬.১ শতাংশ। শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী ৬৫.৩০ শতাংশ এবং পুরুষ ৩৪.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, শুধু কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং পুরুষ ৪০.৫৬ শতাংশ। তাই বলা যায়, নারীদের আত্মহত্যার হার এখনো অনেক বেশি।

বয়ঃসন্ধিকালে ঝুঁকি বেশি
সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে গেছেন। সংখ্যায় তা ৪০৫ জন এবং শতকরা হিসাবে ৭৬.১২ শতাংশ। তার মধ্যে নারী ৬৫.৯৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৩৪.০৭ শতাংশ। আবার, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৪৩ জন বা ৮.০৮ শতাংশ। এর ভেতর নারী ৪৬.৫২ শতাংশ থাকলেও পুরুষ রয়েছেন ৫৩.৪৮ শতাংশ। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় বলেই এ বয়সে আত্মহত্যার হার বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলো
আত্মহত্যা করা স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা তাদের জীবদ্দশায় নানাবিধ বিষয়ের সম্মুখীন হন যা তাদেরকে আত্মহননের পথে ঠেলে দিতে বাধ্য করে। জরিপে উঠে আসা এমনই বেশ কিছু কারণের মধ্যে দেখা যায়, মান-অভিমান তাদেরকে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ করে তোলে। ২৭.৩৬ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন অভিমানের করে। এদের বড় অংশেরই অভিমান হয়েছে পরিবারের সাথে। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে প্রেমঘটিত কারণ যা ২৩.৩২ শতাংশ, পারিবারিক কলহ ৩.১৪ শতাংশ, হতাশাগ্রস্ততা ২.০১ শতাংশ, মানসিক সমস্যা ১.৭৯ শতাংশ, আর্থিক সমস্যা ১.৭৯ শতাংশ, উত্ত্যক্ত, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথে ধাবিত হয়েছেন ৩.১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যার পেছনে দায়ী কারণ জানা যায়নি।

তবে স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে আরো বেশ কিছু ভিন্ন কারণও তাদের সমন্বয়কৃত তথ্যে পেয়েছে বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন। যেমন- আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় ৪ জন, শিক্ষক কর্তৃক অপমানিত হয়ে ৬ জন, গেইম খেলতে বাধা দেয়ায় ৭ জন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ২৭ জন, মোবাইল ফোন কিনে না দেয়ায় ১০ জন, মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় ৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া, পড়াশোনার চাপ অনুভব করা এবং পারিবারিক চাপে আত্মহত্যা।

পারিবারিক কলহের স্বরূপ
মামার বাড়ি যাওয়া নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে কলহ, বাবাকে খাবার পৌঁছে দেয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কলহ, পরীক্ষা দিতে না চাওয়ায় বাবা-মায়ের সাথে কলহ, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ নিয়ে সন্তানের সাথে কলহ ইত্যাদি বিভিন্ন পারিবারিক কলহ ৩.১৪ শতাংশ স্কুল এবং কলেজশিক্ষার্থীর আত্মহত্যার জন্যে দায়ী। মোট আত্মহত্যাকারী স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ২.৬৪ শতাংশ। শুধু কলেজগামী আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই কারণে আত্মহত্যা করেন ৪.৭১ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যে আশা জাগাচ্ছে সরকারি পদক্ষেপ
সরকারের নেয়া নানাবিধ পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম একটি পদক্ষেপ হলো মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ফার্স্ট এইড (পার্ট-১)’ নামক একটি অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি-২০২২-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। প্রত্যেক জেলায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একজন করে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনোবিদ নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। ২০২৩ সালে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা বই’ নামক বইটিতে মনের যত্ন নেয়া বিষয়ক অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে তৈরি হতে সহায়তা করতে পারে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার চিত্র নিয়ে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, ‘শিশু কিশোরদের মন সাধারণত ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়। এ বয়সে ছোট ছোট বিষয়গুলোও তাদেরকে আন্দোলিত করে। বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক বিকাশের সাথে অনেকেই খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে তাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রে ছোটখাটো ঘাটতিও তাদেরকে আত্মহত্যার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।’

এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে তানসেন জানান, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমাদের শিক্ষক এবং বাবা-মায়েদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুকালে বাচ্চাদের উপর বাবা-মায়ের প্রভাব যেমন বেশি থাকে, কৈশোরে সেই দায়িত্ব বর্তায় শিক্ষকদের উপর। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক গঠনে তাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যও বেশি। আমাদের দেশে সন্তান লালন-পালনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে শেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। আবার সন্তান লালন-পালনও যে শিক্ষণীয় একটি বিষয় তাও মানতে নারাজ অনেক মা-বাবাই। ফলে সন্তানদের মানসিক বিষয়গুলো নিয়ে বাবা-মায়েরা অনেক ক্ষেত্রেই থাকেন উদাসীন। তাই সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি তত গুরুত্ব দিতে চান না।

‘স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শিক্ষকরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শুনে মেন্টরের ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমাদের মনে রাখতে হবে এই বয়সে একজন শিক্ষার্থীর সঠিক পরামর্শ পাওয়ার জায়গা অপ্রতুল,’ বলেন তানসেন রোজ।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, একজন শিশু বা কিশোরের আত্মহত্যার কারণ আমাদের কাছে যতই ঠুনকো হোক না কেনো, তাদের কাছে এটা অনেক গুরুতপূর্ণ। তাই তাদের আবেগের গুরুত্ব পাওয়ার অধিকার তারা রাখে।’

এ সম্পর্কে সাইকোলজিস্ট শাহরিনা ফেরদৌস বলেন, ‘২০২২ সালের এই জরিপে দেখা যাচ্ছে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা অনেক বেশি। অর্থাৎ তারা যে বয়ঃসন্ধিকালের সময়টি পার করছে এটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং এ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং সচেতনতা তৈরীর কোনো বিকল্প নেই। কী কারণে তাদের সংখ্যা গতবছর এত বেশি ছিল তার কারণগুলো অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তাদের পারিবারিক বন্ধন, ব্যক্তিগত চাহিদা, সামাজিক অবস্থান- এসব বিষয় জানার প্রয়োজন রয়েছে।’

‘এছাড়াও রোগী দেখার সময় আমি দেখেছি, কোভিড-১৯-এর একটি বড় প্রভাব পড়েছে আমাদের বয়ঃসন্ধিকালীন জনসমষ্টির উপর। যা কাটিয়ে উঠতে এখনো আরো সময়ের প্রয়োজন। সর্বোপরি বয়ঃসন্ধিকালীন মনের যত্ন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ ভীষণ প্রয়োজন। স্ক্রিন বা মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারিবারিক বন্ধন, পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটানোর চর্চা বাড়াতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী এবং সুস্থ মনন গড়ে তুলতে এই পদক্ষেপগুলো অনস্বীকার্য।’

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আঁচল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামিরা আক্তার সিয়াম বলেন, ‘আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। ছোটবেলা থেকেই পরিবারিক, সামাজিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলো রপ্ত করতে শেখাতে হবে। নিজের আবেগীয় আচরণ এবং অন্যের প্রতি সমব্যাথী হয়ে কিভাবে নেতিবাচক মন্তব্য বা পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয় তার চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এতে করে জীবনকে তুচ্ছ না ভেবে, ইতিবাচকভাবে যাপনের কৌশল রপ্ত করতে পারবে। এসব বিষয়ে সন্তানের সাথে বাবা-মা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা মোকাবেলায় আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনা
১. হতাশা, একাকিত্ব ও নেতিবাচক ভাবনা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি করা।
২. সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং তাদেরকে সহানুভূতির সাথে শুনতে ও বুঝতে অভিভাবকদের জন্য প্যারেন্টিং কার্যক্রম চালু করা।
৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের আচরণ ও পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ণে কৌশলী ও সহানুভূতিশীল হতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৪. স্কুল-কলেজ পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধী পোস্টার প্রদর্শন করা।
৫. প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ও দায় বৃদ্ধিতে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত করা।
৬. স্কুল-কলেজের ছাত্রকল্যাণ ফান্ডের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে তা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা সমাধান অনেকাংশে সম্ভব। এতে আর্থিক সংকটজনিত আত্মহত্যার হার কমে আসবে।
৭. প্রেম-প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে বা অজ্ঞাতসারে ধারণ করা গোপন ছবি, ভিডিও ইত্যাদি প্রচার তথা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ও সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে শাস্তি উল্লেখপূর্বক বিশেষ প্রচারণাভিযান পরিচালনা করা।
৮. স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা সতর্কতা চিহ্ন সম্পর্কে ধারণা দেয়া। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য আত্মহত্যাকারীকে বাঁচানো যাবে।
৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেন্টাল হেলথ কর্নার খোলা। শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তির আওতায় এনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ট্রেনিং দেয়া।
১০. কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্লিনিক্যাল সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
১১. শিক্ষার্থীদের আবেগীয় অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও ধৈর্য্যশীলতার পাঠ শেখানো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com