ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতা এড়াতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সকাল থেকে গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানা এলাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কোথাও নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার পর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরছেন।
তিনি আরও জানান, গত সোমবার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় টোল প্লাজায় ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের চেষ্টার সময় হাতেনাতে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে বাসন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটককৃতদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, গত সোমবারের আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হয়ে তৌফিক শেখ (২১) নামে এক পোশাক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় থেকে স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
স্বজন ও সহকর্মীরা জানান, সোমবার নোমান গ্রুপের একটি কারখানার সামনে শ্রমিক আন্দোলনের সময় তৌফিক তার মুঠোফোনে হামলার চিত্র ধারণের চেষ্টা করলে দুষ্কৃতকারীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনি মারা যান। পুলিশ সুপার জানান, তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, সহিংসতা রোধ ও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।