ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনের শুরুতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে গত আট মাস ধরে চলা এই সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের দেওয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৮ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ৯৩ সেন্টে পৌঁছায়।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮ ডলার ৬৬ সেন্ট বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ১০৪ ডলার ৭৭ সেন্টে নেমে আসে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলাকে মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে অবাধে হামলা চালাতে না পারে, তা প্রতিরোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, এই প্রতিবেদনটি তেলের দামে ঝুঁকির প্রিমিয়াম ফিরিয়ে এনেছে। বাজার যখন কেবল একটি কূটনৈতিক সমাধানের কথা ভাবতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই সামরিক কর্মকাণ্ডের স্মারক বাজারের সুর বদলে দিল।’
এদিকে তেহরান সোমবারে জানায় যে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে ইরানিদের বেশ কয়েক দিনের আলোচনা কিছুটা পরিবর্তিত প্রস্তাবের মুখেও কোনো সাফল্য ছাড়াই শেষ হলেও, যুদ্ধ সমাপ্তিতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।