সোমবার, ১২:২০ অপরাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

কানাডায় সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আগুনে নিহত ৪ সেনা, আহত কয়েক ডজন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। শনিবার গোলাবারুদ ব্যবহার করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ চলাকালে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। রোববার দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএন এ তথ্য জানায়।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওই দিন বিকেল পর্যন্ত ৩৯ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রদেশের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ১২ জনের আঘাত তুলনামূলক কম।

নিহত চার সেনাসদস্য হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং এবং প্রাইভেট শন ফ্যারেল, এইডেন গোল্ডিং ও হেইডেন লাইকেমার্ক। রোববার সন্ধ্যায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করে কানাডার সামরিক বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘটনাকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার মাটিতে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের হারানো সাহসী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য শোকাহত।’

সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড জানান, শনিবার প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়ার কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ চলাকালে ঘাসে আগুন ধরে যায়।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছিল। তবে সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকার নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র আগুনটিকে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করেছিল। আগুন সেনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কাও করা হয়নি।

কিন্তু অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত দিক পরিবর্তন করে ছড়িয়ে পড়ে।

রাটল্যান্ড বলেন, ‘বাতাসের দিক পরিবর্তনের সময় আগুনটি এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুনের এক কিলোমিটার এগিয়ে আসা স্বাভাবিক নয়। আমি এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।’

ওই প্রশিক্ষণে সেনারা তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন করছিলেন। এর মধ্যে ছিল হাতবোমা নিক্ষেপ এবং শত্রুপক্ষের ওপর কাল্পনিক আক্রমণ পরিচালনা।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। রাটল্যান্ড বলেন, প্রশিক্ষণে গ্রেনেড লঞ্চার, হাতবোমা, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল। এসবের যেকোনো একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, আবার এগুলোর কোনোটির সঙ্গেই আগুনের সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে।

তবে এ ঘটনায় বাইরের কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ কিংবা তেল-গ্যাস অবকাঠামোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে করছে না সামরিক বাহিনী। এর আগে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিবিসিকে জানিয়েছিলেন, নাশকতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল কি না, তা তদন্তে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাটল্যান্ড।

এ অগ্নিকাণ্ডের পর আলবার্টার হাসপাতালগুলোতে বিপুলসংখ্যক আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে ‘কোড অরেঞ্জ’ ঘোষণা করা হয়। এটি বিপুলসংখ্যক রোগীর জন্য জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সক্রিয় করার সংকেত।

আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা আলবার্টা ওয়েইনরাইটে ৩০টি যান পাঠায়। এর মধ্যে ছিল ২২টি সড়ক অ্যাম্বুলেন্স, ছয়টি স্থির ডানাবিশিষ্ট উড়োজাহাজ এবং দুটি হেলিকপ্টার।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্র্যান্ডন সিমন্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সামরিক যানবাহনে করে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে আনার পর সেখানে দ্রুত রোগীর ভিড় বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘ওই যানবাহনের ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুনেছিলাম। সেই শব্দ কোনো দিন আমার মন থেকে মুছে যাবে না। দৃশ্যটি যেন যুদ্ধের কোনো সিনেমার মতো ছিল।’

রোববার বিকেলের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে জারি করা জরুরি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com