শনিবার, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

নেহা বোরাকে মুক্তি, আদালতে তোলা হবে অভিজিৎকে

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকে শনিবার ভোরে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

শুক্রবার নয়াদিল্লির কনট প্লেসে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আটকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় নতুন একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিজিৎকে।

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার দিনের পরের দিকে তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে কারাগারে পাঠানো হবে নাকি জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎকে আটক করার সময় শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছিল। সে সময় এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারনামায় তাকে স্বাক্ষর করানো হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন নেহা। আটকের ঘটনাকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে কারাগারে পাঠানোরও দাবি তোলেন তিনি।

বার্তা সংস্থা পিটিআই ভিডিওকে নেহা বলেন, ‘মাণ্ডি হাউস থেকে আমাকে আটক করা হয়েছিল এবং ভোর পাঁচটা পর্যন্ত সারা রাত থানায় রাখা হয়। পুলিশ কেন এভাবে বেআইনিভাবে মানুষকে আটক করছে? দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এমন ঘটনা ঘটছে। তবে এই আন্দোলন বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা দাবি করে, আইনশৃঙ্খলা মেনে চলে এবং আইন অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হচ্ছে না।’

আন্দোলনে আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া সব বিক্ষোভকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তাদের মধ্যে অভিজিৎ দীপকেও রয়েছেন।

নেহা বলেন, ‘এই আন্দোলন চলাকালে পুলিশ সন্ধ্যায় বেআইনিভাবে মানুষকে আটক করছে এবং পরদিন সকালে বা সন্ধ্যায় ছেড়ে দিচ্ছে। কোন আইনে এ ধরনের আটকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আটক সব বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিতে হবে, অভিজিৎ দীপকেকেও। মধ্য দিল্লিতে যে ধরনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, সেটিও বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে বিজেপি সরকার—সবারই ঔদ্ধত্য ত্যাগ করা উচিত। জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করে কারাগারে পাঠাতে হবে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াও বন্ধ করতে হবে, যাতে দিল্লি ও ভারতের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কনট প্লেসের উদ্দেশে যাওয়ার পথে নেহাকে মাণ্ডি হাউস থেকে এবং অভিজিৎকে ঝান্ডেওয়ালান এলাকা থেকে আটক করা হয়েছিল।

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, আটকের পর নেহাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। পরে তাকে আর কে পুরম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সংগঠনটির দাবি, রাত প্রায় ১২টার দিকে আইনজীবীরা থানায় পৌঁছালেও তাদের নেহার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। কখন তাকে মুক্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়েও পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। কয়েক দিন ধরে নেহা অসুস্থ থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিক্ষোভের আগে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। পার্কের ভেতরে দ্রুত পদক্ষেপকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি পুরো এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com