সোমবার, ১২:৩৬ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

খালেদা জিয়ার হাত ধরেই শুরু হয় টেলিযোগাযোগ খাতে আমূল পরিবর্তন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত

দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট বিপ্লব ও ডিজিটাল রূপান্তরের দুই দশক পূর্ণ হবে বৃহস্পতিবার (২১ মে)। ২০০৬ সালের এদিনে কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি মহাসড়কে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ।

খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হওয়া এই একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবল গত ২০ বছরে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের ধীরগতির যুগ পেরিয়ে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, ফ্রিল্যান্সিং ও সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

ঐতিহাসিক এই মাইলফলক উপলক্ষে দেশের তথ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

২০০৫ সালের পূর্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সংযোগের ক্ষেত্রে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে কৃত্তিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটনিভর ছিল। সেই সময়ে ইন্টারনেটের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর—মাত্র কয়েক কিলোবিট থেকে সর্বোচ্চ কয়েক মেগাবিট। ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আন্তর্জাতিক কলের মান ছিল নিম্ন ও প্রতি মিনিট কলের খরচ ছিল অত্যন্ত বেশি। দেশের তথ্য ও প্রযুক্তি খাত বিকাশের কোনো সুস্পষ্ট পথ ছিল না। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং ডিজিটাল অর্থনীতির কোনো পরিকাঠামোই বিদ্যমান ছিল না।

২০০৬ সালের ২১ মে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সি-মি-উই-৪’ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। শুরুতে বাংলাদেশের লিট-আপ ক্যাপাসিটি ছিল মাত্র ২২ জিবিপিএস এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রকৃত ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার ছিল মাত্র ৫.৮৯ জিবিপিএস। এই ক্ষুদ্র সূচনাটিই ছিল বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর। তবে ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিএসসিপিএলসি পর্যায়ক্রমে এর সক্ষমতা বাড়াতে থাকে। ২০১১-১২ সালে প্রথম আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে সক্ষমতা ৮৫০ জিবিপিএস-এ উন্নীত করা হয় এবং সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ষষ্ঠ আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩,৮০০ জিবিপিএস ক্যাপাসিটি যুক্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে শুধু ‘সি-মি-উই-৪’ ক্যাবলেই বাংলাদেশের মোট ডিজাইন ক্যাপাসিটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৬০০ জিবিপিএস।

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের কল্যাণে গত দুই দশকে বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটেছে। কিলোবিট -এর যুগ পেরিয়ে দেশ এখন গিগাবিট গতির ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করেছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং আজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, যার মাধ্যমে লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ফিনটেক সেবার পাশাপাশি পাসপোর্ট আবেদন, ভ্যাট রিটার্ন ও জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো সরকারি সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। অনলাইন ক্লাস এবং টেলিমেডিসিন সেবা প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা করোনা মহামারিকালীন সময়ে জাতীয় জীবনে অমূল্য ভূমিকা পালন করেছিল।

বিএসসিপিএলসি শুরু থেকেই একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৫১৫.৪৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। ২০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে বিএসসিপিএলসি দেশের সকল অপারেটর ও সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় এই ‘নিরাপদ ও বিশ্বস্ত’ অবকাঠামো থেকে ব্যান্ডউইডথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক ডিজিটাল হাবে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com